বাড়ির ছাদে এক টুকরো অবসর 

আপডেট : ২৪ জুন ২০২১, ১৮:৩৬

অতিমারিতে খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে কেউ বের হচ্ছে না। কোভিড সংক্রমণের ভয়ে ঘরবন্দি জীবন পার করছেন নাগরিকরা। সবকিছু বাড়ি কেন্দ্রিক হওয়াতে একঘেয়েমি চলে এসেছে দৈনন্দিন জীবনে। খোলা হাওয়ায় যে ঘুরে আসবেন সেখানেও কাজ করে দ্বিধা। কিন্তু দম বন্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে বাড়ির খোলা কোনো স্থান সাজিয়ে নিতে পারেন নিজের ইচ্ছা মতো। সে ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন খোলা ছাদকে। 

খোলা ছাদটাকে এমন করে নিন, যেখানে কিছু সময় কাটানো যাবে প্রতিদিন। বিকালে বা সন্ধ্যায় পরিবারের সবাই মিলে খানিকটা সময় খোলা হওয়ায় সময় কাটাতে পারেন। এতে বাচ্চারাও আনন্দিত হবে।

কীভাবে সাজাবেন, এই নিয়ে ভেবে চিন্তিত হবেন না। এটা খুব একটা খাটুনির কাজ নয়। খোলা জায়গা যেমন খুশি আসবাব দিয়েই সাজিয়ে নেওয়া যায়। একটি কফি টেবিল আর কয়েকটি হালকা চেয়ার কিনে ফেলুন। আর রাখতে পারেন কিছু মোড়া। এভাবে বসার ব্যবস্থা হয়ে গেল। মাদুরও পেতে রাখতে পারেন সেখানে। আবার সবুজ ঘাস যদি ভালো লাগে, তবে কৃত্রিম ঘাসও লাগিয়ে নেওয়া যায় ছাদে। এর সঙ্গেই অনেক ধরনের গাছ রাখুন চার পাশে। 

ছাদ বাগান দিনকে দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ইট কাঠের শহরে একটু কোমল সজীবতা পেতে চায় মন। বাগান করতে প্রযোজন খোলা জায়গা। যেখানে পর্যাপ্ত সূর্য়ের আলো পাওয়া যায়।  সেই সাথে যদি যোগ হয় আপনার ইচ্ছাশক্তি তাহলেই সবুজের সমারোহ দেখা মিলবে ছাদে। যদি স্থায়ী বাগান করতে চান, তাহলে সিমেন্টের টব বেছে নিতে পারেন। ইচ্ছা করলে প্রয়োজনমতো এ ধরনের টব তৈরিও করে নিতে পারেন। ছাদে কখনোই ঝোপ আকৃতির গাছ লাগাবেন না। এতে আগাছা জমে বাগানের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। বরং বিভিন্ন ফুল ও দেশীয় ফলের চারা রোপন করতে পারেন। 

করোনাকালে বাচ্চাদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে তাদের নিয়ে ছাদের খোলা হওয়ায় কিছু সময় কাটাতে পারেন বিকাল বা সন্ধ্যায়। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না, বন্ধুদের সাথেও দেখা হচ্ছে না তাদের, নতুন নতুন খেলনাগুলো পুরনো হয়ে যাচ্ছে দ্রুত- সেজন্য বাচ্চাদের সময়কে একটু আনন্দময় করতে ছাদে নিয়ে যেতে পারেন। তাদের সাথে ঘুড়ি ওড়াতে পারেন কিংবা ছাদ বাগানের কাজেও সম্পৃক্ত করতে পারেন। দেখবেন বাচ্চারা খুব খুশি হবে এবং এতে তাদের একঘেয়েমি কাটবে। 

ইত্তেফাক/আরএম