২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচির আলোকে বাংলা প্রথমপত্র

আপডেট : ২৫ জুন ২০২১, ২০:০২

এইচ. এম. ফেরদাউস হাসান রাসেল

প্রভাষক বাংলা

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ

‘তাহারেই পড়ে মনে’

 

তন্দ্রার বিয়ে হয়েছে পাঁচদিন হলো। এটা তার দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম যে বার বিয়ে করেছিল তখন ছিল শীতকাল। এখন বর্ষাকাল। আকাশে মেঘ। তন্দ্রা  তাকিয়ে আছে জানালার বাইরে, দৃষ্টি তার কোথায় নিবন্ধ জানে না। তার স্বামী এসে পাশে দাঁড়ায়। এমন সময় বৃষ্টি ঝরতে থাকে। স্বামী আনন্দে চিত্কার করে, ‘দেখো কী সুন্দর বৃষ্টি!’ তন্দ্রা  প্রত্যুত্তরে শুধু মৃদু হাসে। আরও জোরে বৃষ্টি নামে। স্বামী হাত ধরে টানে, চলো ভিজি দুজনে। কিন্তু তন্দ্রা  নীরব, নিথর। স্বামী তার ভাবটি বুঝতে পেরে বলে, ‘তন্দ্রা, তোমার এই উপেক্ষা আর আমার সহ্য হচ্ছে না। আমায় ব্যথা দিয়ে কী সুখ তুমি পাও?’ তন্দ্রা আর থাকতে পারে না। স্বামীর কাছে হাত জোড় করে বলে, ‘ওগো, আমি যে কিছুতেই ভুলতে পারছি না, শুধু তাহারেই পড়ে মনে।’

ক. ‘উত্তরী’ শব্দের অর্থ কী?

খ. কবি কাকে কেন মাঘের সন্ন্যাসী বলেছেন?

গ. ‘তাহারেই পড়ে মনে’- উক্তিটি কবির সাথে কীভাবে অনুচ্ছেদের তন্দ্রাকে তুলনীয় করে তুলেছে?

ঘ. প্রিয়জনের বিরহে মানুষ শূন্যতা অনুভব করে কেন? ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার আলোকে আলোচনা করো।

ক) ‘উত্তরী’ শব্দটি উত্তরীয় শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। ‘উত্তরীয়’ অর্থ চাদর।

খ) ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল শীত ঋতুকে মাঘের সন্ন্যাসী বলেছেন। ষড়ঋতুর এই দেশে পৌষ মাঘ এ দু’মাস শীতকাল। মাঘের শেষ দিকে শীতের বিদায় ঘণ্টা বেজে ওঠে। এ সময় প্রকৃতি কুয়াশার চাদর জড়িয়ে শীতের তীব্রতায় মুছড়ে পড়ে। গাছপালা পাতাশূন্য হয়ে পড়লে প্রকৃতিকে সংসার ত্যাগী সন্ন্যাসীর মতো মনে হয়। প্রকৃত সন্ন্যাসীর যেমন রিক্ততা, নিঃস্বতা, ধন-সম্পদ হীনতার অবস্থা থাকে, তেমনি শীতকালের প্রকৃতিও রিক্ত, নিঃস্ব এবং আবরণহীন। প্রকৃতির এই  অলংকারবিহীন রূপের কারণেই কবি শীতকে মাঘের সন্ন্যাসী বলেছেন।

গ) কবি জীবনের প্রাণপুরুষের বিয়োগের প্রেক্ষাপটে যেভাবে কবিতাটি লিখেছেন ঠিক সেভাবেই অনুচ্ছেদের তন্দ্রার জীবনের প্রথম স্বামী বিদায়ের বিরহ ফুটে উঠেছে।

কবি তাঁর প্রয়াত প্রিয়জনকে ভুলতে পারছেন না। কবির ব্যক্তিজীবনে সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উত্সাহদাতা স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের আকস্মিক মৃত্যুতে কবির জীবনে প্রচণ্ড শূন্যতা নেমে আসে। তার ব্যক্তিজীবন ও কাব্যসাধনার ক্ষেত্রে নেমে আসে এক দুঃসহ বিষন্নতা। কবি মন আচ্ছন্ন হয়ে যায় রিক্ততার হাহাকারে। কবি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না তাকে। এই হাহাকারই ফুটে ওঠেছে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার প্রতিটি অংশে।

ঠিক একই ধরনের অনুভূতি উপরের অনুচ্ছেদের তন্দ্রাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। বর্ষার প্রেমাতাল প্রকৃতির টান আর তার দ্বিতীয় স্বামীর আহ্বানও তাকে উদ্বেলিত করতে পারছে না। মেঘাচ্ছন্ন আকাশের দিকে তাকিয়ে তার কেবলই মনে পড়ে ছেড়ে আসা প্রথম স্বামীর কথা। সে বৃষ্টিকে তার কেবলই হূদয়ের কান্না মনে হয়। তার কাছে প্রেমসিক্ত প্রকৃতির কোনো আবেদন নেই। ভীষণ শূন্যতায় তার হূদয়টা যেন পূর্ণ হয়ে আছে। সুতরাং, বলা যায়, ‘তাহারেই পড়ে মনে’- উক্তিটি কবির অনুভূতিকে অনুচ্ছেদের তন্দ্রার  অনুভূতির সাথে একাত্ম করে তুলেছে।