ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা
ব্রিটিশ আমলে নির্মিত পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বৃহত্তম ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে শত বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। পুরাতন স্টেশনটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। চারটি প্ল্যাটফরমের আশপাশে মলমূত্রের দুর্গন্ধে সব সময় অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজমান। যাত্রী সেবার ন্যূনতম সুবিধা নেই। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই স্টেশনের ওপর দিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে। সুবিশাল এলাকা নিয়ে ঈশ্বরদী জংশনে রয়েছে বিশাল আকারের সান্টিং ইয়ার্ড। ভারত হতে আমদানিকৃত মালামালসহ দেশের অভ্যন্তরে রেলওয়েতে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন ব্যবহার হয়।
সরেজমিন ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, সম্প্রতি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পের রেললাইন স্থাপনের সময় প্রকল্পের অর্থায়নে স্টেশনের চারটি প্ল্যাটফরম উঁচু ও সম্প্রসারণ করা হয়। প্ল্যাটফরম উঁচু করার ফলে স্ট্রেশনের ব্রিটিশ আমলে নির্মিত সবকটি অফিসের মেঝে এখন অনেক নিচে। ৩ ও ৪ নম্বর প্ল্যাটফরমের সম্প্রসারিত অংশে ছাউনি নেই। রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে এই অংশে যাত্রীদের ট্রেনে ওঠানামা করতে হয়। প্ল্যাটফরমের নিচে রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মলমূত্র। যাত্রী বিশ্রামাগারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও প্রথম শ্রেণির যাত্রীদের বিশ্রামাগারের অবস্থা শোচনীয়। শৌচাগারের দুর্গন্ধে যাত্রীরা বিশ্রামাগার ছেড়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। শোভন ও তৃতীয় শ্রেণির যাত্রীদের বসার গোলচত্বরগুলো হকারের মালসামান ও ব্যবসায়ী যাত্রীদের মালাপত্রে বোঝাই করে রাখা হয়। ৩ ও ৪ নম্বর প্ল্যাটফরমের টিনশেড ছাউনি সম্প্রতি বদলানো হলেও ১ ও ২ নং প্ল্যাটফরমের ছাউনির (ছাদ) দিকে তাকালেই চোখে পড়ে ছোট-বড় অসংখ্য ছিদ্র। সামান্য বৃষ্টিতেই প্ল্যাটফরম পানিতে ভেসে যায়।
যাত্রী ও স্থানীয়রা জানান, বর্তমান সরকার রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এই স্টেশনে সেবার মান না বেড়ে বরং সমস্যা বেড়েই চলেছে। শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, তিনি ট্রেনের নিয়মিত যাত্রী। কিন্তু ঈশ্বরদীর পাকশীতে রেলের বিভাগীয় অফিস থাকা সত্ত্বেও ঈশ্বরদী স্টেশনের যাত্রীদের ভীষণ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সাবেক কমিশনার মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান ফান্টু বলেন, শৌচাগারের দুর্গন্ধে যাত্রী বিশ্রামাগারে বসা যায় না। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে বৃহত্তম এই স্টেশনে যাত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত টিকিটের সংখ্যা একবারেই নগণ্য।
স্টেশন সুপারিনটেন্ডেন্ট মহিবুল ইসলাম জানান, আগের চেয়ে বর্তমানে স্টেশন প্ল্যাটফরমের পরিবেশ অনেক ভালো। তবে, ট্রেন প্ল্যাটফরমে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় নিষেধ থাকা সত্ত্বেও অনেক যাত্রী ট্রেনে মলমূত্র ত্যাগ করায় পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। এ কারণেই দুর্ভোগ। রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ম্যানেজার (ডিআরএম) শাহিদুল ইসলাম জানান, ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন আধুনিকায়নের প্রস্তাবনা রয়েছে। বাজেট আনার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ ঈশ্বরদী জংশন আধুনিকায়নের জন্য সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করব।
