সখীপুরে চায়না জালে ডিমওয়ালা মাছ নিধন!

আপডেট : ২৫ জুন ২০২১, ২০:৪২

সখীপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

বর্ষার পানি পুরোপুরি আসার আগেই সখীপুর উপজেলার নদী-নালা ও খাল-বিল ছেয়ে গেছে ‘চায়না’ জালে। আর এসব জাল দিয়ে প্রাকৃতিক উেস ডিম দিতে আসা মা ও পোনা মাছ নিধন করছেন এক শ্রেণির মাছ শিকারি। উপজেলার সর্বত্র স্বল্প পানিতে দেখা যাচ্ছে এই জাল। এদিকে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা তেজপুর ও কালিয়ানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশকিছু চায়না দিয়ারী জাল পুড়িয়ে দিয়েছেন।

জালের মালিকরা বলছেন, এমন কোনো মাছ নেই যা এই জালে ধরা পড়ে না। সরজমিনে উপজেলার বড়চওনা, কচুয়া, সাড়াসিয়া-বাশারচালা, কুতুবপুর, ইন্দারজানি, পলাশতৈল, তৈরধারা, বহেড়াতৈল, কৈয়ামধু, বেতুয়া, দাড়িয়াপুর, ইছাদীঘি, কালমেঘা, বহুরিয়া, হতেয়া-রাজাবাড়ী, বেড়বাড়ী, তক্তারচালা ও বাজাইল গ্রামের নিচু জমিগুলোতে দেখা গেছে সারি সারি চায়না জাল। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যেখানেই একটু পানি জমেছে সেখানেই এই জাল পাতা হচ্ছে। আর অবাধে ডিমওয়ালা দেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা হচ্ছে। জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাস মাছের প্রজনন কাল। চায়না জাল দিয়ে মাছ ধরার কারণে নতুন পানিতে মা-মাছ ডিম ছাড়তে পারছে না। এর ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উত্পাদন কমে যাচ্ছে। পোনা মাছও ধরা পড়ছে এই জালে। এভাবে অবাধে ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ ধরলে দেশীয় প্রজাতির মাছের অভাব দেখা দেবে। উপজেলার কচুয়া গ্রামের দুলাল হোসেন বলেন, পানিতে যদি মাছ থাকে তবে চায়না জালে তা ধরা পড়বে। লোহার রডের সঙ্গে পেঁচিয়ে বিশেষভাবে তৈরি বর্গাকৃতির এই ঘন জালটি মাছের জন্য সর্বনাশা ফাঁদ। আড়াইপাড়া গ্রামের হুরমুজ আলী বলেন, এই জালের দাম একটু বেশি হলেও পোষায়। এত মাছ অন্য কোনো জালে ধরা পড়ে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চায়না জাল দিয়ে ধরা মাছ বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে। এসব মাছের মধ্যে রয়েছে ছোট পোনা থেকে শুরু করে আট থেকে ১০ ইঞ্চি লম্বা টাকি, ছোট-মাঝারি শিং-মাগুর ও ট্যাংরা। এসব মাছের অধিকাংশই ডিমওয়ালা। অথচ ডিমওয়ালা মাছ ধরা নিষেধ। স্থানীয়রা বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে মানুষ কর্মহীন হওয়ায় এসব মাছ ধরা আরো বেড়েছে। আগে যেসব লোক অন্য কাজকর্ম করে ব্যস্ত সময় পার করতেন এখন তারা অনেকেই এসব মাছ ধরছেন। রাতে টর্চলাইট নিয়ে মাছ ধরতে দেখা যায়। আর এসব চায়না জাল বা চায়না দিয়ারী উপজেলার কুতুবপুর, বড়চওনা, কচুয়া, সখীপুর সদর, নলুয়া, তক্তারচালা বাজারে বিক্রি করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন একাধিক বিক্রেতা বলেন, বর্তমান মৌসুমে চায়না দিয়ারী জালের ব্যাপক চাহিদা। স্থানীয় সচেতন মহল নিষিদ্ধ এ চায়না জাল বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তা না হলে এই জাল দিয়ে এভাবে মাছ নিধন অব্যাহত থাকলে মৌসুমে মাছের তীব্র আকাল দেখা দেবে।

উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা সমীরণ কুমার সাহা বলেন, দেশীয় মাছ প্রজননকালে তিনি তত্পর রয়েছেন। গত দুই দিনে উপজেলার তেজপুর ও কালিয়ানপাড়া গ্রামে এসব নিষিদ্ধ বেশকিছু জাল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় এই দুুই মাস মাছ না ধরার জন্য সখীপুরবাসীকে অনুরোধ করেছেন। দুই মাস মাছ না ধরলে উপজেলায় বিপুল পরিমাণ মাছের সমাহার থাকবে। এছাড়াও চায়না জাল ও কারেন্ট জাল বিক্রি বন্ধে বিক্রয়কারী ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনার পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিত্রা শিকারি জানান, মত্স্য অধিদপ্তর এবং উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে চায়না জাল অপসারণে ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া আগামী সপ্তাহেই অসাধু মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।