বড়লেখায় চার বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে অনিয়ম

আপডেট : ২৫ জুন ২০২১, ২০:৪৩

তপন কুমার দাস, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

বড়লেখায় চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৮ জুন বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী এই চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শেষে কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইউএনও নির্মাণাধীন ভবনগুলো ঘুরে দেখেন।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-নারী শিক্ষা একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ছোটলিখা উচ্চ বিদ্যালয় ও চান্দ্রগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়। পরিদর্শনে তার সঙ্গে ছিলেন বড়লেখা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাওলাদার আজিজুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন প্রমুখ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ছোটলিখা উচ্চ বিদ্যালয়ের চার তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণে ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, নারী শিক্ষা একাডেমি মাধ্যমকি বিদ্যালয়ের চার তলা একাডেমিক ভবনে ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ও চান্দ্রগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে চার তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণে ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এই চার প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। বড়লেখা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নারী শিক্ষা একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের দরজায় অপরিণত কাঠ লাগানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে নিম্নমানের সামগ্রী ও বাথরুমে নিম্নমানের ফিটিংস ব্যবহার করা হয়েছে। ভবনের নিচের দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। র্যাম্প ফ্লোরের নেট ফিনিসিং উঠে যাচ্ছে। বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনে দুটি দরজায় নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। ভবনের ছাদের প্লাস্টার উঠে যাচ্ছে। জানালায় নিম্নমানের পুডিং ব্যবহার করা হয়েছে। ছোটলেখা উচ্চবিদ্যালয়ে মাটিযুক্ত বালু দিয়ে প্লাস্টার কাজ করতে দেখা গেছে। এই ভবনের ছাদের প্লাস্টার উঠে গেছে। যথাযথভাবে কিউরিং (গাঁথুনি, ছাদ ঢালাই করার পর পর্যাপ্ত পানি দেওয়া) করা হয়নি। চান্দ্রগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন জায়গায় নিম্নমানের ইট ব্যবহার করতে দেখা গেছে। বালু ও সিমেন্টের মিশ্রণ কোনো কোনো জায়গায় সঠিকভাবে হয়নি। ছোটলিখা উচ্চ বিদ্যালয়ে মাটিযুক্ত বালু দিয়ে প্লাস্টার কাজ তাত্ক্ষণিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চান্দ্রগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ভবনগুলোর নিম্নমানের সামগ্রী পরিবর্তন করার কথা বলা হয়েছে। নারী শিক্ষা একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবনের ঠিকাদার রুসমত আলম বলেন, ‘ভবনের কাজ এখনো চলমান আছে। রং, সোলার ও বিদ্যুতের কাজ বাকি রয়েছে। ত্রুটি থাকলে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।’

ছোটলিখা উচ্চ বিদ্যালয় ভবনের ঠিকাদার প্রদীপ কুমার দেব বলেন, ‘বিল্ডিংয়ের বাইরের অ্যাপ্রোনের কাজ চলছে। ভবনের মূলকাজ শেষ পর্যায়ে। সব কাজ প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের দেখিয়ে করা হয়েছে। কাজে এরকম হওয়ার কথা না। কিউরিংয়ের বিষয়ে আমি সচেতন। পানি দেওয়ার লোক রাখা আছে। তারপরও আমি দেখব। যেহেতু কাজ চলমান। সংশোধন করা যাবে।’

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন বলেন, ‘যেসব ত্রুটি পাওয়া গেছে এগুলো সংশোধনের জন্য চার প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারকে পূর্বেই বলা হয়েছে। তারা সংশোধন করে দেবেন বলেছেন। কিছু সংশোধন কার্যক্রম চলছে। ভবনের কাজ চলমান আছে। কাজ যথাযথ না হলে বিল দেওয়া হবে না।’ বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী ১৯ জুন দুপুরে বলেন, ‘চারটি ভবনের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও বেশকিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে। একটি ভবনে তাত্ক্ষণিক কাজ বন্ধ করা হয়েছে। অন্যগুলোতে নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণ করতে বলা হয়েছে। দরপত্রের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী প্রত্যেক ভবনের যাবতীয় কাজ যথাযথ না হলে ঠিকাদারদের বিল না দিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’