সীমান্ত এলাকায় ঘরে ঘরে করোনা রোগী

আপডেট : ২৫ জুন ২০২১, ২০:৪৫

ইত্তেফাক ডেস্ক

সীমান্ত এলাকায় ঘরে ঘরে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। এদিকে সংক্রমণ প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় লকডাউন দেওয়া হলেও তা মানছেন না অনেকে। নমুনা পরীক্ষায়ও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না কোথাও কোথাও। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

নেত্রকোনা : প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ জন কারোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। গত দুই দিনে নেত্রকোনায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিন জন মারা গেছে।  এখন ঘরে ঘরে উপসর্গের রোগী থাকলেও  নমুনা পরীক্ষায় আগ্রহ নেই স্থানীয়দের। দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নমুনা সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত এক টেকনিশিয়ানসহ চার জন আক্রান্ত হয়েছে। এজন্য সমস্যা দেখা দিয়েছে নমুনা পরীক্ষায়। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা জেলায় করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হচ্ছে ১ হাজার ৩৭০ জন (সরকারি হিসাবে)। আর মারা গেছেন ২৮ জন। জেলা হাসপাতালটিতে ৩৬টি শয্যা নিয়ে চালু করা হয় করোনা ওয়ার্ড। কিন্তু কেবল ৩৬টি শয্যা, তিনটি পালস অক্সিমিটার আর ১১টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ছাড়া আর কিছুই নেই করোনা ইউনিটে। সিভিল সার্জন ডা. সেলিম মিঞা বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত সাধারণ রোগীদের চিকিত্সার জন্য সব প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। তবে জটিল রোগী হলে তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে।’

নওগাঁ : নওগাঁয় লকডাউন ও বিধিনিষেধের মধ্যেও থেমে নেই মৃত্যু ও শনাক্তের হার। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে আর শনাক্ত হয়েছে ৭২ জন। ২৪ জুন পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে আর শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৬৬ জন। নওগাঁ সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম আবু হানিফ জানান, জেলায় ৩০ লাখ লোকের মধ্যে ৮৪ ভাগই লোকই বসবাস করেন। জেলায় মোট শনাক্তের মধ্যে ৫৮ শতাংশ গ্রামের লোকজন। বাকি ৪২ শতাংশ শনাক্ত হয়েছে শহরে লোকজনের মধ্য থেকে।

ঝিনাইদহ : হাসপাতালে বেড়েছে করোনা রোগীর চাপ। শুক্রবার ১৭৯ জন করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। ২৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ১৭৯ জনের ফলাফল পজিটিভ এসেছে। আক্রান্তের হার ৬১ ভাগ। এখন পর্যন্ত জেলায় এটাই সর্বোচ্চ শনাক্তের হার। সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম জানান, সকালে কুষ্টিয়া ও যশোর ল্যাব থেকে আসা করোনার টেস্ট রিপোর্টে এ তথ্য জানা গেছে। জেলায় মৃত্যু হয়েছে দুই জনের। মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩ হাজার ৮৯০ জনে।

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) : আগৈলঝাড়ায় নতুন করে সাত জনের করোনা শনাক্তের খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের তালিকায় আগৈলঝাড়া উপজেলায় আক্রান্তর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭১ জনে। নতুন আক্রান্ত তিন জনের বাড়িসহ আশপাশের এলাকা লকডাউন দিয়ে তাদের হোম আইস্যুলশনের মাধ্যমে চিকিত্সা প্রদানের কথা জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বখতিয়ার আল মামুন।

জয়পুরহাট : জেলায় গত পাঁচ দিনে করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭৩ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। জেলা  সিভিল সার্জন ডা. ওয়াজেদ আলী জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে জয়পুরহাট জেলায় পাঁচ দিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭৩ জন।

বাগেরহাট : বাগেরহাটে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার প্রতিদিনই ওঠানামা করছে। কঠোর বিধিনিষেধ দিয়েও সংক্রমণের লাগাম টেনে রাখা যাচ্ছে না। গত ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে আরো ৭৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ১৫৭টি নমুনা পরীক্ষায় ৭৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। শুক্রবার বিধিনিষেধের দ্বিতীয় দিন দোকানপাট ও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাস্তাঘাট ফাঁকা। নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষদের রাস্তায় পেলে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, করোনার সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বগতি তার লাগাম টেনে ধরাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। জেলায় গত ১৫ দিন ধরে সংক্রমণের গড় হার ৪২ শতাংশ। জেলায় জারি করা কঠোর বিধিনিষেধেও সংক্রমণের হার কমছে না।

সিরাজগঞ্জ : ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ জেলায় আরো ৪৫ জনের দেহে করোনার নমুনা পাওয়া গেছে। আক্রান্তের হার ২৮ দশমিক ৮৫ ভাগ । ৯ জনকে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মোট ১৫৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সিরাজগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা হুমায়ুন ইসলাম নিশ্চত করেন।