দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা
নবাবগঞ্জে ট্যানারির বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে কালীগঙ্গা নদীর পানি। কেরানীগঞ্জ ও সাভার উপজেলার সীমান্তবর্তী হরিণধরা এলাকায় গড়ে উঠা ট্যানারির বর্জ্যে কয়েক মাস ধরে নবাবগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৪০ কিলোমিটার নদীর অংশ জুড়ে পানি দূষিত হচ্ছে।
জানা যায়. বর্তমানে সাভার এলাকায় ট্যানারি শিল্প গড়ে উঠায় এর বর্জ্য ধলেশ্বরী নদী হয়ে বুড়িগঙ্গায় মিশছে। বুড়িগঙ্গা হয়ে কেরানীগঞ্জের হযরতপুর খালের সঙ্গে কালীগঙ্গার সংযুক্ত থাকায় নদীতে বর্জ্য ঢুকে পড়ছে। ফলে কালীগঙ্গা নদীর পানির রং কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে নদীর মাছ মরে ভেসে উঠছে। দুর্গন্ধের কারণে গোসলসহ দৈনন্দিন কাজ করতে পারছেন না স্থানীয়রা। নদীতে গোসল করার ফলে অনেকের শরীরে চুলকানি হচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, কালীগঙ্গার পানি বর্ষা মৌসুমের আগে খুব টলটলে থাকে। এ অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ এ নদীর পানি দিয়ে কৃষি কাজ করে থাকেন। তা ছাড়া গোসল থেকে শুরু করে রান্না ও গবাদিপশুকেও গোসল করিয়ে থাকেন নদীর পাড়ের মানুষ। জেলেরা মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। নদীর এই মিঠা পানিতে মাছের স্বাদও ভিন্ন রকমের। কয়েক মাস যাবত নদীতে ট্যানারির বর্জ্য ঢুকে পরিবেশকে দূষিত করছে। এলাকাবাসী জানায়, কর্তৃপক্ষ এখনি যদি এর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে পরিবেশ ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করবে। তারা জানায়, গত দুই মাস যাবত নদীর পানির রং কালো ধারণ করে দুর্গন্ধ ছুটছে। এতে মাছ মরে ভেসে উঠছে।
শোল্লা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মো. মোহন বলেন, ট্যানারির বর্জ্যে যে ভাবে নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি যথাযথ ব্যবস্থা না নেয় তা হলে এ অঞ্চলের কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়বে। স্থানীয় যুবলীগ নেতা হানিফ খান বলেন, এমনিতেই এলাকার মানুষ কালীগঙ্গা নদীর ভাঙনে দিশাহারা। তার মধ্যে বর্জ্য ঢুকে পানিকে দূষিত করছে। এর একটা বিহিত না করলে খুবই সমস্যা হবে। শোল্লা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দেওয়ান তুহিনুর রহমান বলেন, কালীগঙ্গা নদীর পাড়ের বেশির ভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। বর্জ্য ঢুকে নদীর পানিকে যে ভাবে দূষিত করে পরিবেশ নষ্ট করছে এতে করে এখানকার কৃষির ওপর একটা বড় ধরনের চাপ পড়বে। ফসল উত্পাদনে সংকট দেখা দেবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তিনি এ ব্যাপারে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা জেলার উপ-পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে সরেজমিন পরিদর্শন করে নদীর পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠাবেন। প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
