পলিথিন অপচনশীল পদার্থ। পলিথিনের পরিত্যক্ত অংশ দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত ও অবিকৃত থেকে মাটি ও পানি দূষিত করে, মাটির উর্বরতা হ্রাস ও গুণাগুণ নষ্ট করে ফেলে। পলিথিন মাটির সঙ্গে মিশে না যাওয়ার ফলে সূর্যের আলো ফসলের গোড়ায় পৌঁছতে পারে না। ফলে মাটির ক্ষতিকারক ব্যাক্টেরিয়া না মারা যাওয়ায় জমিতে ফসলের উত্পাদন কমছে। পুরোনো পলিথিন পুড়িয়ে এর থেকে আবার নতুন পলিথিন তৈরি করার সময় পলিফিনাইল ক্লোরাইড পুড়ে কার্বন মনোক্সাইড উত্পন্ন হয়ে বাতাস দূষিত করে। নারডল নামক এক প্রকার পলিথিন বর্জ্য সমুদ্রের পানিতে মিশে যাওয়ায় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। পলিথিন মাটির সঙ্গে মিশতে প্রায় শত বছরেরও বেশি সময় লাগে। অপচনশীল পলিথিনের যত্রতত্র ব্যবহারের ফলে ভরাট হচ্ছে নগর-মহানগরের পয়োনিষ্কাশনের নালা-নর্দমা। যত্রতত্র ছুড়ে ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট পলিথিন বৃষ্টির পানির সঙ্গে ড্রেনে-নর্দমায় ঢুকে পড়ে। এতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অচল হওয়ার ফলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। পলিথিন বর্জ্যের কারণে উর্বরতা হারাচ্ছে মাটি, বাতাসে ছড়াচ্ছে বিষ। ভরাট হচ্ছে খাল-বিল-নদী, দূষিত হচ্ছে পানি। পলিথিন থেকে নির্গত হয় বিসফেনোল নামক বিষাক্ত পদার্থ যা মানবদেহের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর।
আমাদের দেশে করোনা মহামারিকালে এক বছরে ৭৮ হাজার টনেরও বেশি পলিথিন বর্জ্য উত্পাদন হয়েছে। এর মধ্যে শুধু রাজধানী ঢাকায় ৫ হাজার ৯৯৬ টন। পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য উত্পাদনে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ এখন দশম স্থানে। ২০০২ সালে সরকার আইন করে পলিথিন উত্পাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে এবং সেটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ৬(ক) ধারাটি সংযোজন করা হয়। আইনের ১৫ ধারায় বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি নিষিদ্ধ পলিথিন সামগ্রী উত্পাদন, আমদানি বা বাজারজাত করে তাহলে ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা, এমনকি উভয় দণ্ডও হতে পারে।
নিষিদ্ধ হওয়ার পরও পলিথিনের উত্পাদন, বিপণন ও ব্যবহার বন্ধ হয়নি। পৃথিবীর উন্নত দেশেগুলো পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়াচ্ছে এবং পলিথিন পরিহার করছে। মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশকে রক্ষা করতে হলে পলিথিন ও ওয়ান টাইম প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করে বিকল্প হিসেবে চট ও কাগজের ব্যাগ এবং প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাচের বোতলের ব্যবহারের গণসচেতনতা বাড়াতে হবে।
জয়পুরহাট
