নিজেকে সিনেমায় নিয়েজিত করেছেন দীর্ঘদিন। সাফল্য-ব্যর্থতা হিসেব না করে একের পর এক ছবি করে গেছেন ইমন। তাই এই করোনাকালেও ব্যস্ততা থামেনি। বর্তমান সময়ের ব্যস্ততা ও কাজের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
আপনার চলমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে জানতে চাই—
‘বিয়ে আমি করবো না’ ও ‘সাহসী যোদ্ধা’ শিরোনামের দুটি ছবি এবং ‘আবার’ নামের একটি হরর ওয়েব ফিল্মের শুটিং শেষ করলাম। এছাড়া ‘আকবর’সহ বেশ কয়েকটি ভালো গল্পের ছবির কাজ হাতে রয়েছে। যেগুলোর শুটিং শিগগিরই শুরু করবো। পাশাপাশি ‘আগামীকাল’ ছবিটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
আগামীকাল ছবিটি কবে পাচ্ছেন দর্শকরা?
ছবিটি এরইমধ্যে আনকাট সেন্সর পেয়েছে। এখন আমরা হল খোলার অপেক্ষায় রয়েছি। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিন্ধান্ত নেওয়া হবে। ভালো গল্পের এই ছবিটি সকলের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করবো।
অন্যান্যদের মতো আপনিও ওটিটির জন্য কাজ করছেন। এই মাধ্যমটিকে কতটা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন?
আসলে এই মাধ্যমটিতে যুক্ত হতে আমরা এখন বাধ্য। সিনেমার মূল মাধ্যম সিনেমাহল বন্ধ থাকায় বিকল্প মাধ্যম হিসেবে ওটিটি বড় মাধ্যম হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এখন বাইরের দেশে কিন্তু অনেক বড় বাজেটের ছবিও রিলিজ হচ্ছে। সেই জায়গা থেকে আমাদের জন্য এটা ইতিবাচক একটি প্লাটফর্ম হতে পারে।
এখনো দেশের প্লাটফর্মগুলোর অবস্থান তৈরি না হওয়ার কারণ কোনটিকে বলবেন?
আমার মনে হয়, আর একটু সময় দিলে এবং কোয়ালিটিসম্পন্ন কাজ এখানে রিলিজ হলে প্লাটফর্মগুলো দাঁড়াবে। যেহেতু এই মাধ্যমের কাজ সারাবিশ্বের মানুষ দেখে সেহেতু সেই মান ধরে রেখে নির্মাণ করতে হবে। নামমাত্র কাজ দিয়ে অবস্থান তৈরি করা যাবে না। আর একটি বিষয় হলো, আমাদের প্লাটফর্মগুলোতে শুধু নাটকের মানুষ কাজ করছেন। এই চর্চা থেকে বের হয়ে সিনেমা-নাটকের সবাই মিলেমিশে ভালো কাজ করতে হবে।
সিনেমা দেখার মাধ্যমের পাশাপাশি দর্শক রুচির পরিবর্তন হয়েছে। উত্কর্ষের জায়গায় আপনার দৃষ্টিতে এই পরিবর্তনটা কেমন?
দেখুন, এখন কিন্তু সবাই ঘরে বসেই বিভিন্ন দেশের সিনেমার সঙ্গে পরিচিত হতে পারছে। অনেক কাজের ভেতর থেকে ভালো কাজগুলো বেছে নিচ্ছে। এখন নির্মাণ করতে হলে কিন্তু তাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই নির্মাণ করতে হবে। তবে আমাদের দেশে এখন নতুন অনেক মেধাবী নির্মাতা ভালো ভালো ছবি নির্মাণ করছেন। শিগগিরই আমরা বিশ্বমানের সিনেমা বানাতে পারবো, ইনশাল্লাহ।
সুযোগ না পাওয়া এবং স্বজনপ্রীতি নিয়ে অনেকেই অভিযোগ করেন। আপনি কী মন্তব্য করবেন?
স্বজনপ্রীতি বলতে কিছু নেই। যিনি কাজ জানেন, মেধা আছে তিনি নিশ্চয় টিকে যাবেন। নতুনদের কাজের অনেক সুযোগ আছে এবং অনেকে ভালো কাজ করছে। মেধা, সততা আর পরিশ্রম থাকলে অবস্থান আপনা-আপনি তৈরি হয়ে যাবে।
অনেকে সাড়া জাগিয়ে অভিনয়ে এলেও আস্থার জায়গায় বেশিরভাগই ব্যর্থ বলা চলে। এ নিয়ে কী বলবেন?
আমার মনে হয়, তাদের ধৈর্য্য ও একাগ্রতা কম রয়েছে। শর্টকাটে স্টার হতে চান, আবার একটুতেই হতাশ হয়ে পড়েন। অভিনয় তো অত সহজ কাজ নয়, যে এলাম জয় করে ফেলাম!
আপনার সমসাময়িক অনেকেই নিয়মিত কাজ করছেন। তারপরও একক নির্ভরতা কাটাতে পারছেন না ইন্ডাস্ট্রি। কেন এই অবস্থা তৈরি হচ্ছে?
শাকিব কিন্তু শাকিবই! একজন সুপারস্টার তিনি। দীর্ঘদিন একাই ইন্ডাস্ট্রিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। আর কারো বিকল্প কখনো কেউ হতে পারে না। আমি বলবো, শাকিব ভাইয়ের বিকল্প তো না, তবে আরো দু-চারজন স্টার নির্মাতারা চাইলে তৈরি করতেই পারতেন। ভালো নির্মাতারা শাকিব ভাইয়ের সিডিউল না পাওয়ার পরও তার পেছনে না ঘুরে যদি আমাদের নিয়ে কাজ করতেন তাহলে সিনেমাটি হিট হতো, আর আমরাও অবস্থান তৈরি করতে পারতাম।
চলচ্চিত্র কী আদৌ সিনেমা হলে গড়াবে? এর ভবিষ্যত্ কী?
চলচ্চিত্রের দুর্দিন কিন্তু বারবার এসেছে, আবার সেই অন্ধকার কেটেও গেছে। করোনা মহামারি কেটে গেলে নিশ্চয় সিনেমা আবার ঘুরে দাঁড়াবে। কারণ মানুষ মুখিয়ে আছে সিনেমাহল কবে খুলবে, তারা হলে বসে সিনেমা দেখবে! এই সীমাবদ্ধতার মাঝেও আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।
