বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে ১৬২৩ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

আপডেট : ২৫ জুন ২০২১, ২২:০৬

উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে বাংলাদেশের জন্য ১৯ কোটি ১০ লাখ ডলার ঋণ অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভা। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৬২৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। গতকাল শুক্রবার সংস্থাটির বোর্ড সভায় বাংলাদেশের জন্য ১৯ কোটি ১০ লাখ ডলারের ঋণ এবং আফগানিস্তানের জন্য ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার অনুদান অনুমোদন করা হয়েছে। ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন ট্রান্সফরমেশন প্রজেক্ট’ শিরোনামে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে শিক্ষা খাতে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম আঞ্চলিক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরম গঠন করা হবে। দক্ষিণ এশিয়া উচ্চশিক্ষা পোর্টাল বাংলাদেশ থেকে চালু হবে। যার মাধ্যমে নিবন্ধিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিজ দেশের বাইরে অন্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশের শিক্ষার্থীরা এই পোর্টালে সংযুক্ত হতে পারবেন। প্রকল্পটি বাংলাদেশের জাতীয় গবেষণা ও শিক্ষা নেটওয়ার্কের উন্নয়ন করবে এবং এই নেটওয়ার্কে যুক্ত শিক্ষার্থীদের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভর্তুকি মূল্যে সংযোগ প্যাকেজ দেবে।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন এ বিষয়ে বলেন, এই অর্থায়ন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার মান ও প্রাসঙ্গিকতা বাড়াতে, বিশেষত নারীদের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে কোভিড-১৯ অতিমারির সময় শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রাখা নিশ্চিত করবে।

বিশ্বব্যাংক আরো উল্লেখ করেছে, কোভিড-১৯ অতিমারি দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষা খাতকে ক্ষতির মুখে ফেলেছে। যার ফলে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে এবং অনেকে ভর্তি হতে পারছে না। কোভিডের কারণে বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর বৈরীভাবে প্রভাব পড়েছে। এর ফলে উচ্চশিক্ষা খাতে জেন্ডার-বৈষম্য বাড়ছে। প্রকল্পটি ডিজিটাইজেশনের ওপর জোর দিয়ে উচ্চশিক্ষা খাতে অতিমারির কারণে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং টেকসই থাকার পদ্ধতিগত সামর্থ্য বাড়াতে সহায়তা করবে। শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণের হারে দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। আরো বেশি নারীকে গুণমানের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ দিতে তুলনামূলক ভালো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে এবং তাদের নেতৃত্বে আনতে প্রকল্পটি নারী বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে, যা প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে অবস্থিত এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব উইমেন সমন্বয় করবে। বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে পাওয়া এ ঋণ পাঁচ বছর রেয়াতকালসহ ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে।