কুমিল্লায় ‘ভুল অপারেশনে’ মেধাবী ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

আপডেট : ২৫ জুন ২০২১, ২২:০৭

কুমিল্লায় মেধাবী ছাত্র মেহেদী হাসানের ‘ভুল অপারেশনে’ মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন ভূঁইয়াকে প্রধান করে এ কমিটি করা হয়। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসেন। 

মৃত মেহেদী হাসান জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের সবুজপাড়া গ্রামের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আলী আক্কাসের ছেলে। বুয়েট থেকে পাশ করে কানাডার দ্য ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছিলেন তিনি। গত বছরের ২২ মে তিনি দেশে ফেরেন এবং করোনার কারণে বেশির ভাগ সময় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার বাড়িতেই অবস্থান করে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতেন। পাইলসের চিকিত্সার জন্য গত রবিবার তাকে ভর্তি করা হয় কুমিল্লা শহরের নজরুল অ্যাভিনিউ সড়কে অবস্থিত প্রাইভেট হাসপাতাল গোমতীতে। পরদিন সোমবার বিকালে সেখানে তার পাইলসের অপারেশন হয়। অপারেশনটি করেন ঐ হাসপাতালের চিকিত্সক ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্জারি কনসালট্যান্ট ডা. আবু বকর সিদ্দিক। কিন্তু অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান মেহেদী হাসান। তার স্বজনদের অভিযোগ, ‘ভুল অপারেশনে’ মেহেদীর মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্ত ডাক্তার ডা. আবু বকর সিদ্দিক ফয়সলের কর্মস্থল জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হলেও সেখানে নিয়মিত না গিয়ে তিনি থাকেন জেলা শহরে। শহরের গোমতী ও সিডিপ্যাথ নামের দুটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়মিত প্র্যাকটিস করেন তিনি।

গোমতী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান জানান, ‘এ মৃত্যুর বিষয়ে আমি ডাক্তারের পক্ষে সাফাই গাইব না, ভুল চিকিত্সায় মৃত্যু হয়েছে তাও স্বীকার করব না। অনেক কারণে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। ডাক্তার ইচ্ছা করে ভুল করেন না। অনেক ব্লিডিং পয়েন্ট থাকে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।’ এদিকে ঘটনার বিষয়ে ডা. আবু বকর সিদ্দিক ফয়সল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে তদন্ত হচ্ছে, তাই তদন্তাধীন এ বিষয়ে কিছু বলব না।’