দেশে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের ডেলটা ধরনের সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ায় সারা দেশে ১৪ দিনের শাটডাউনের সুপারিশ করেছে জাতীয় পরামর্শক কমিটি। এ খবর শুনে গতকাল থেকে বিকল্প উপায়ে রাজধানী ছেড়ে গ্রামে মানুষ ছুটছে। নগরীর প্রবেশমুখ ও বাহিরের অন্যতম সড়ক গাবতলী এলাকা, ঢাকা-মাওয়া রোড, ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে, উত্তরার আব্দুল্লাপুরে ছিল মানুষের ঢল। বাস বন্ধ থাকায় বিভিন্ন যানবাহনে কয়েক ধাপে, কয়েক গুণ ভাড়া বেশি দিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন মানুষ। অপরদিকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনো গাড়িকেই ঢাকায় ঢুকতে বা বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। তবুও ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না মানুষের স্রোত।
করোনায় কোণঠাসা দেশ। এর বিস্তার রোধে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে বন্ধ রয়েছে সারা দেশের বাস, ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল। কিন্তু চিকিত্সা, জীবিকা ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজন ছাড়াও অপ্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভেঙে ভেঙে ঢাকায় ঢুকছে মানুষ। একই ভাবে ঢাকা ছাড়ছে অনেকে। এ অবস্থায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র গণপরিবহন চলাচল বন্ধের সুপারিশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সারা দেশে ১৪ দিনের শাটডাউনের সুপারিশ করার পর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন তা বাস্তবায়নের ব্যাপারে যে কোনো বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ইঙ্গিত করেছেন।
রাজধানীর আব্দুল্লাপুর এলাকায় কামরুল ইসলাম নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, শাটডাউন দিলে ঢাকায় কোনো কিছুই করতে পারব না। শাটডাউনের খবর পেয়ে বাড়িতে ছুটছি। ফুটপাতের ব্যবসা বন্ধ থাকলে ঢাকায় থেকে কী করব? ঢাকায় থাকলে খরচ তো হবেই। রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে ছাড়া হচ্ছে না কোনো ধরনের পরিবহন। তবে থেমে নেই মানুষের যাতায়াত। গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে একটু সামনে এগোলেই আমিন বাজার ব্রিজ। ব্রিজ মুখেই চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। সেখানে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ ও ত্যাগে পুলিশ বাধা দিচ্ছে।
ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট : দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকার পরও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গতকাল দেখা গেছে তীব্র যানজট। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আবুল খায়ের পাটোয়ারী বলেন, সড়কে বাস চলাচল চোখে পড়েনি। তবে বাস ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। ঢাকার যাত্রাবাড়ীর সাইনবোর্ড থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দি পর্যন্ত ছিল তীব্র যানজট। মানুষে যেভাবে পারছে বিভিন্ন যানবাহনে করে গ্রামে ছুটছেন। অপর দিকে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সড়কে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। ফলে পদে পদে সব ভোগান্তি নিয়েই মানুষ গন্তব্যে ছুটছেন।
ঘাটে যাত্রীর চাপ : মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি ও গোয়ালন্দ সংবাদদাতা জানান, লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই শিমুলিয়া-বাংলাবাজার এবং দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যাত্রী পারাপারে চাপ বেড়েছে। এবার শাটডাউন ঘোষণার আশঙ্কায় যাত্রী পারাপার বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে এ নৌরুটের ফেরিগুলোতে ঢাকা ও দক্ষিণবঙ্গগামী উভয়মুখী প্রচুর যাত্রীকে পারাপার করতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে পারাপার হচ্ছে পণ্যবাহী ও জরুরি যানবাহন।
মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ জাকির হোসেন জানান, শিমুলিয়া ঘাটের প্রবেশমুখে চেকপোস্ট রয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে যথাসম্ভব যাত্রীদের ঘাটে আসা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু যাত্রীরা বিভিন্নভাবে ঘাটে এসে উপস্থিত হচ্ছেন। মূলত শাটডাউন ঘোষণার শঙ্কায় যাত্রীর আগমন বেড়েছে।
বর্তমানে দৌলতদিয়ার সাটটি ঘাটের চারটি ঘাট সচল রয়েছে, এ চারটি ঘাট দিয়ে দক্ষিণাঞ্চল-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা পণ্যবাহী যানবাহন ফেরিতে উঠছে। আর এই সুযোগে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যানবাহন ও যাত্রীরা ফেরিতে স্বাভাবিকভাবে পারাপার হচ্ছেন।
