অষ্টম শ্রেণির পড়াশোনা:বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

আপডেট : ২৬ জুন ২০২১, ২০:১৩

মিজানুর রহমান, সহকারী শিক্ষক

পিরোজপুর সরকারি বালিকা

উচ্চ বিদ্যালয়

পোরগোলা গ্রামটি শিক্ষা দীক্ষায় অনেক পিছিয়ে। ফলে গ্রামবাসী শিক্ষা সংস্কৃতিসহ  সবদিক থেকে পশ্চাত্পদ।  এ গ্রামেরই এক শিক্ষিত, বিত্তবান ও প্রভাবশালী  যুবক  রাশেদ । সে গ্রামটিকে উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার জন্য গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় , হাইস্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করে । তার প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে এলাকাবাসীর মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে এলাকাবাসী সমাজ সচেতন নাগরিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে । রাশেদের অবিরত প্রচেষ্টায় গ্রামবাসী নারীশিক্ষা, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে।

ঘ. ‘রাশেদের মতো  উন্নয়নকর্মী ও সংস্কারবাদী ব্যক্তিবর্গের কর্মতত্পরতার  ফলেই ভারতের স্বাধীনতার  পথ সুগম হয়েছে ’  উক্তিটির বিশ্লেষণ করো।

ঘ. ‘রাশেদের মতো উন্নয়নকর্মী ও সংস্কারবাদী ব্যক্তিবর্গের কর্মতত্পরতার ফলেই ভারতের স্বাধীনতার পথ সুগম হয়েছে’ উদ্দীপকের এ উক্তিটির বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই রাশেদ যেমন গ্রামবাসীকে নারীশিক্ষা, মানবাধিকার  ও মৌলিক অধিকার ইত্যাদি মৌলিক বিষয়ে সচেতন করে ।তত্কালীন সময়ে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রমুখ সংস্কারপন্থী ব্যক্তিবর্গের অগ্রণী ভূমিকায় সারা ভারতবাসী জেগে ওঠে। ইংরেজদের জুলুম অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। ইংরেজদের আধুনিক শিক্ষার সংস্পর্শে  এসে স্থানীয় মানুষের মাঝে  নতুন চেতনার উন্মেষ ঘটে। সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। বিধবা বিবাহের পক্ষে মত তৈরি হয়। মুদ্রণযন্ত্র স্থাপন ও সংবাদপত্র প্রকাশের মাধ্যমে  ইংরেজদের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করা হয়।

ফলে তারা সমাজের অনাচার  নিয়ে যেমন তারা আত্মসমালোচনা করেছেন তেমনি শাসকদের অবিচারের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন । এরই ফলে সমাজের সংবেদনশীল  মানুষের নজর যায় সমাজের দিকে । ডিরোজিও , বিদ্যাসাগর প্রমুখ অবাধে মুক্ত মনে জ্ঞানচর্চার  ধারা তৈরি করেন । বাঙালির এই নবজাগরণ কলকাতা মহানগরীতে ঘটলেও এর পরোক্ষ প্রভাব সারা বাংলাতেই পড়েছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর এই নবজাগরণ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটে। সেই সাথে এর ফলে স্বাধীনতার আশা প্রত্যাশা ও গণতান্ত্রিক অধিকার বোধের উন্মেষ ঘটতে থাকে । সামগ্রিকভাবে বাংলায় দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক চেতনার জোয়ার আসে। এরই ধারাবাহিকতায় দেখা দেয় বঙ্গভঙ্গ বিরোধী  আন্দোলন । এ সময় অনেক তরুণ সশস্ত্র সংগ্রামের দিকে ঝুেঁক পড়ে। মুসলমানদের দাবি-দাওয়া  আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৬ সালে স্বতন্ত্র মুসলিম লীগ। স্বরাজ আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলনসহ বিভিন্ন নিরবিচ্ছিন্ন  ও ধারাবাহিক  আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকার ঔপনিবেশিক  শাসনের অবসান ঘটে। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ স্বাধীন  হয়ে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।