বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। অথচ বাংলাদেশে বেশ কিছুদিন ধরে করোনা রোগী শনাক্তের হার ২০ শতাংশের বেশি। এই ভাইরাসের সংক্রমণ এখন শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে করে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। গত বছর ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করেছিল, যেখানে অন্যান্য দেশে লকডাউন ঘোষণার পর কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, সেখানে আমাদের দেশে লকডাউনের বিভিন্ন নাম বের করা হয়েছিল—সীমিত আকারে লকডাউন, ঢিলেঢালা লকডাউন। কিন্তু সার্বিকভাবে কোনো সচেতনতার লক্ষ্মণ দেখা যায়নি। যার ফলে ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিনিয়তই বেড়ে চলেছে। এখন সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাত দিনের জন্য কঠোর লকডাউন তথা শাটডাউন ঘোষণা করতে যাচ্ছে। শাটডাউনও যাতে ঢিলেঢালাভাবে না হয়, এর জন্য সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে এবং জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে, যাতে তারা বিধিনিষেধ মেনে চলতে বাধ্য হয়। একই সঙ্গে গরিব খেটে-খাওয়া মানুষদের জন্য বিশেষ সাহায্য সহায়তা করতে হবে। সঠিকভাবে বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করার মাধ্যমেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে দেশ ও দেশের মানুষদের বাঁচানো সম্ভব।
প্রসেনজিত্ কুমার রোহিত
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ
