শরণখোলায় চাঁই বিক্রির ধুম

আপডেট : ২৬ জুন ২০২১, ২২:১৫

শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

শরণখোলায় মাছ ধরার চাঁই বিক্রির ধুম পড়েছে। উপজেলায় টানা বৃষ্টি হওয়ায় খাল-বিলে নতুন পানি এসেছে আর মাঠে-ঘাটেও পানি উঠে গেছে। তাই মাছ শিকারিরা দেদারছে কিনছেন চাঁই। আর তাই ব্যবসায়ীদের মুখেও হাসি ফুটেছে। লাভ না হলেও চাঁই তৈরিতে বিনিয়োগ করা পুঁজি কোনো রকমে উঠে আসবে বলে জানান, উপজেলার উত্তর কদমতলা গ্রামের চাঁই ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার সকালে উপজেলার উত্তর কদমতলা গ্রামে দেখা গেছে, বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এসে চাঁই কিনে ভ্যান বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছেন। চাঁই ব্যবসায়ী জামাল মুন্সি বলেন, বছরের বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ়—এ তিন মাস তারা ব্যবসা করেন। এর আগে মাঘ মাসে গ্রাম থেকে বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ কিনে মাছ ধরার চাঁই বানানো শুরু করেন। তারা একেক জন এক থেকে দেড় হাজার চাঁই তৈরি করেন। জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ের বৃষ্টিতে মাঠ-ঘাট পানিতে তলিয়ে গেলে তাদের বেচাকেনার ধুম পড়ে যায়। সাধারণ মানুষও চাঁই কিনে মাছ ধরেন। মৌসুমের শুরুতে প্রচণ্ড খরা ও বৃষ্টির অভাবে মাঠে-ঘাটে পানি না ওঠায় তারা চাঁই তেমন বিক্রি করতে পারেননি। মৌসুমের শেষ দিকে আষাঢ়ের প্রথম থেকে বৃষ্টি হওয়ায় তাদের বেচাকেনা ভালো হচ্ছে।

চাঁই ব্যবসায়ী দুলাল হাওলাদার বলেন, বৃষ্টিতে চাঁই বিক্রি হওয়ায় এ বছর লাভ না হলেও বিনিয়োগ করা পুঁজি কোনোমতে উঠে আসবে। একই ধরনের কথা বলেন, হালিম হাওলাদার, জামাল হাওলাদার, হাবিব হাওলাদার, নেছার হাওলাদার, হেলাল হাওলাদার ও হারুন মুন্সি। তারা জানান, উত্তর কদমতলা গ্রামের প্রায় অর্ধশত পরিবার গত ৩০ বছর ধরে গ্রামাঞ্চলে মাছ ধরার চাঁই তৈরির ব্যবসা করে আসছেন। মোড়েলগঞ্জ, সন্ন্যাসী, তুষখালী, মঠবাড়ীয়া, ভাণ্ডারিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতা এসে পাইকারি দরে হাজার হাজার চাঁই কিনে নিয়ে যান। একটি চাঁই ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এখানে বছরে ২৫-৩০ লাখ টাকার চাঁই বেচাকেনা হয় বলে ব্যবসায়ী দুলাল হাওলাদার জানান।