রান
১৩ বলে ২১
উইকেট
৪
g জান-ই-আলম
শেষ ১২ বলে দরকার ৩২ রান। অনাতিক্রম্য না হলেও কঠিন সমীকরণ তো বটেই। ১৯তম ওভারে ১৬ রান তুলে ম্যাচে প্রাণ ফেরান প্রাইম ব্যাংকের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান অলক কাপালি। শেষ ওভারে শহীদুল ইসলামের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে কাঙ্ক্ষিত ১৬ রানের নাগাল পাননি তিনি। চতুর্থ বলে ছক্কা মেরে কিছুটা উত্তেজনার সঞ্চার করেছিলেন কাপালি। কিন্তু পঞ্চম বলে শুধু সিংগেল নিতে পেরেছেন। ম্যাচের অন্তিম বলে মুস্তাফিজও রান তুলতে পারলেন না। নিস্তব্ধতা নেমে আসে প্রাইম ব্যাংকের ডাগআউটে।
মুহূর্তেই দর্শকশূন্য মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গর্জন উঠল। শিরোপা জয়ের আনন্দে মাতলেন আবাহনীর ক্রিকেটাররা। অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত তুলে নিলেন স্টাম্প। সতীর্থরা যোগ দিলেন অধিনায়কের সঙ্গে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বাঁধভাঙা এমন উত্সব সাইফউদ্দিনদেরই মানায়। কারণ আবারও হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছে আবাহনী।
গতকাল শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে প্রাইম ব্যাংককে ৮ রানে হারিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আবাহনী। লিগের গত ৫ আসরে চার বারই ট্রফি গেল আবাহনীর ঘরে। মোট ২১ বার প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতল ক্লাব।
লিগে ১৬ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় আবাহনী, সমান ম্যাচে ২২ পয়েন্ট রানার্সআপ প্রাইম ব্যাংক। গতকাল আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৫০ রানের পুঁজি গড়ে আবাহনী। শান্ত ৪৫, মোসাদ্দেক ৪০, লিটন ১৯, আফিফ ১২ রান করেন। শেষ দিকে সাইফউদ্দিন ১৩ বলে দুই ছক্কায় ২১ রানের ক্যামিও খেলেন।
ব্যক্তিগত শূন্য রানেই মুস্তাফিজের বলে ফিরতে পারতেন লিটন। মুস্তাফিজের এলবির আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার তানভীর আহমেদ। লম্বা আবেদনের পর বিস্ময়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রাইম ব্যাংকের খেলোয়াড়রা। ম্যাচের শেষ ওভারেও শহীদুলের প্রথম বলটা ছিল কোমর উচ্চতার ওপরে। কিন্তু ‘নো’ ডাকেননি আম্পায়ার। অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলেন কাপালি।
নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান বিজয়-মিঠুনদের ব্যর্থতার দিনে রান তাড়া করতে নেমে প্রাইম ব্যাংক ৯ উইকেটে ১৪২ রানের বেশি তুলতে পারেনি। রুবেল মিয়া ৪১, বিজয় ১৩, নাঈম হাসান ১৯, কাপালি অপরাজিত ৩৪ রান করেন। আবাহনীর সাইফউদ্দিন ৩৬ রানে ৪টি উইকেট নেন। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরাও তিনি।
এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচে জয়ে লিগ শেষ করেছে মোহামেডান। প্রাইম দোলেশ্বরকে ডিএল মেথডে ২৫ রানে হারিয়েছে ক্লাবটি। বৃষ্টিবিঘ্নিত ১৩ ওভারের ম্যাচে মোহামেডান আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১০৩ রান তোলে। ডিএল মেথডে দোলেশ্বরের টার্গেট দাঁড়ায় ১০৭ রান। কিন্তু ৮১ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। ২১ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন মোহামেডানের বাঁহাতি পেসার রুবেল মিয়া।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ সাইফ উদ্দিন
