স্পোর্টস রিপোর্টার
গত বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটিংয়ে চরম বিরক্ত হয়েছিল বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। তরুণ নাসিম শাহর হ্যাটট্রিক পূরণ হয়েছিল মাহমুদউল্লাহ স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আসায়। তার পরই টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েন তিনি। পাকিস্তান সফরের পর মাহমুদউল্লাহর প্রতি টিম ম্যানেজমেন্টের বার্তা ছিল এমন—লাল বল আর নয়, এখন শুধু সাদা বলের ক্রিকেটে মনোযোগী হও।
বাংলাদেশের শেষ পাঁচ টেস্টের দলে জায়গাই হয়নি এ অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের। কিন্তু হুট করেই কপাল খুলে গেল মাহমুদউল্লাহর। জিম্বাবুয়ে সফরে একমাত্র টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাকে। ১৬ মাস পর টেস্ট দলে ফিরলেন বাংলাদেশের টি-২০ অধিনায়ক। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিসিবি। ফলে জিম্বাবুয়ে সফরের টেস্ট দলে ক্রিকেটার এখন ১৮ জন।
মূলত তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের ইনজুরির কারণে টেস্ট দলে নেওয়া হয়েছে মাহমুদউল্লাহকে। তামিম হাঁটুর, মুশফিক আঙুলের ইনজুরিতে থাকলেও জিম্বাবুয়ে সফরে যাচ্ছেন। অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যানের ইনজুরিতে ঝুঁকি কমাতে মাহমুদউল্লাহকে ফেরানো হয়েছে টেস্ট দলে।
গতকাল বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমাদের কিছু ইনজুরি সমস্যা আছে, তামিমের পায়ে একটা ব্যথা আছে, মুশফিকের আঙুলে একটা সমস্যা আছে। যেহেতু জিম্বাবুয়েতে আমাদের একটা বড় সফর আর এখনকার পরিস্থিতি কিন্তু একটু কঠিন। তাই আমরা কোনো ঝুঁকি নেইনি, স্কোয়াডটা বড় করেছি।’
সফরের একমাত্র টেস্টে তামিম-মুশফিক খেলতে পারবেন আশা বিসিবির। তারপরও ঝুঁকি নিতে চায় না বিসিবি। ব্যাটিং লাইনে অভিজ্ঞতার ঘাটতি কমাতে মাহমুদউল্লাহকে ডাকা হয়েছে। আকরাম খান আরো বলেন, ‘আমরা কোনো ঝুঁকি নিচ্ছি না। আমরা ৮০ ভাগ নিশ্চিত তারা (তামিম-মুশফিক) খেলবে। তারপরও কোনো ঝুঁকি নিচ্ছি না। মুশফিকের ব্যাকআপ হিসেবে নেওয়া হলো।’
মাহমুদউল্লাহ সর্বশেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে। যেখানে বিসিএলের ম্যাচে দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে দুই ইনিংসে ১৮ রান করেছিলেন তিনি।
বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াড: মুমিনুল হক (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সাদমান ইসলাম, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, লিটন কুমার দাস, ইয়াসির আলী চৌধুরী, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, আবু জায়েদ রাহী, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন চৌধুরী, শরীফুল ইসলাম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
