‘প্রজাপতি বাদুড়ের’ সন্ধান পেলেন জাবি অধ্যাপক

আপডেট : ২৬ জুন ২০২১, ২২:৪১

টাঙ্গাইলের মধুপুর জাতীয় উদ্যানের একটি কলাগাছে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ‘পেইন্টেড ব্যাট’ বা প্রজাপতি বাদুড়ের সন্ধান পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুল হাসান খান। গতকাল শনিবার বিকালে তিনি ইত্তেফাককে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, এ বাদুড়টিকে ১৩৪ বছর ধরে বাংলাদেশে দেখা যায়নি। সর্বশেষ ১৮৮৮ সালে যুক্তরাজ্যের প্রাণিবিজ্ঞানী ডব্লিউ টি ব্লেনফোর্ডের লেখা ‘ফনা ইন ব্রিটিশ ইন্ডিয়া’ নামক একটি গ্রন্থে বাদুড়ের ঐ প্রজাতি ঢাকায় দেখা গেছে বলে উল্লেখ ছিল। কিন্তু এরপর অনেকে বাদুড়টিকে খুঁজলেও পাননি। এ বাদুড়টির ছবি বাংলাদেশে আগে তোলা হয়েছে,       এমন তথ্যও নেই। তবে গত ৭ জুন অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুল হাসান খান তার গবেষণা সহকারী লজেশ মৃরের থেকে খোঁজ পেয়ে মধুপুরে গিয়ে ঐ বাদুড়ের সন্ধান পেয়েছেন। তিনি বাদুড়টির ছবিও তুলেছেন।

প্রজাপতি বাদুড় নামেও পরিচিত এই বাদুড়টি ভারতের কয়েকটি রাজ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এখনো দেখা যায়। তবে বাংলাদেশ থেকে এটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে অনেক প্রাণিবিজ্ঞানী ধারণা করছিলেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালে প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন ও বন বিভাগ থেকে ‘রেড লিস্ট’ নামে বাংলাদেশে বিপন্ন প্রাণীদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানেও এই বাদুড় সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই বলে জানা গেছে। এছাড়া বিশ্বের বন্যপ্রাণীবিষয়ক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে এটি বাংলাদেশে আর টিকে নেই বলেই উল্লেখ করা হয়।

অধ্যাপক মোহাম্মদ মনিরুল হাসান খান ইত্তেফাককে বলেন, প্রথমত এটা বড় সুসংবাদ যে, এই বাদুড় আমাদের দেশে এখনো টিকে আছে। যেহেতু মধুপুর বনে পেয়েছি, সেহেতু অন্য বনেও এরা থাকতে পারে। ফলে এটি দেখলে যাতে কেউ একে ধরা বা মারার চেষ্টা না করে। এই প্রজাতির বাদুড় ক্ষতিকর অনেক পোকা খেয়ে মানুষের উপকার করে।

তিনি বলেন, তিন থেকে চার সেন্টিমিটার লম্বা এ ছোট্ট বাদুড়টি মূলত পতঙ্গভুক। উজ্জ্বল রঙ এটিকে অন্য বাদুড় থেকে আলাদা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আরেক অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান ইত্তেফাককে বলেন, অন্য বাদুড়ের তুলনায় এ প্রজাতির বাদুড় কিছুটা ধীরে চলে। এরা সাধারণত দিনের বেলা কম বের হয়। রাতে বেরিয়ে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় খায়। উজ্জ্বল রঙের হওয়ায় দূর থেকে শিকারি প্রাণী এদের দেখতে পায় ও খেয়ে ফেলে। তাই এ প্রজাতির বাদুড়ের সংখ্যা পৃথিবীতে দ্রুত কমে আসছে। এরা বছরে একটি বাচ্চা দেয়।