সিলেট নগরের জিন্দাবাজারে গড়ে ওঠা বিশাল মার্কেট ‘রাজা ম্যানশন’ নিয়ে মালিকপক্ষ পড়েছে বিপাকে। ভূমিকম্পপ্রবণ সিলেটে বিশাল এই মার্কেট যে কোনো সময় ভেঙে পড়ে আরেক ‘রানা প্লাজা’ ট্র্যাজেডি সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু মার্কেটের মালিকপক্ষ না পারছে এটাকে ভেঙে ফেলতে, না পারছে টিকিয়ে রাখতে। বাদ সেধেছেন ঐ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। তারা ব্যবসা হারানোর আশঙ্কায় মার্কেটের দখল ছাড়তে নারাজ।
এদিকে সম্প্রতি সিলেটে দফায় দফায় ভূমিকম্পের পর আবারও নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট ও ভবন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছে রাজা ম্যানশনও। সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় প্রাণহানি এড়াতে ভবনটি বন্ধ করে দিতে চায় মূল মালিকপক্ষ। কিন্তু একাধিকবার রাজা ম্যানশন ছাড়ার অনুরোধ করলেও দোকানমালিকেরা তা ছাড়ছেন না।
মার্কেটের প্রতিটি তলায় বড় বড় ফাটলের পাশাপাশি বিভিন্ন খুঁটি ও পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ মার্কেটে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বই কিনতে আসা লোকজনের ভিড় থাকে। জরাজীর্ণ সিঁড়ি দুটির কোনো রেলিং নেই, তেমনি পিলারগুলোর ফাটলও ভয়ংকর।
রাজা ম্যানশন সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এখন আর সেটি নেই। ক্রমেই বইয়ের বাইরেও আরো কিছু ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।
এর আগে ২০১৬ সালেও সিলেট সিটি করপোরেশন ও ফায়ার সার্ভিস ভবনটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। কিন্তু দোকানমালিকেরা উলটো সংস্কারের জন্য চাপাচাপি করছেন বলে ভবনমালিকদের পক্ষে এমন অভিযোগ করেন মরমী কবি হাসন রাজার প্রপৌত্র দেওয়ান শমশের রাজা চৌধুরী। রাজা ম্যানশন ভেঙে ভূমিকম্পসহনীয় আধুনিক শপিং মল করতে চান তাঁরা। তালিকা অনুযায়ী দোকানমালিকদের বরাদ্দ দেওয়ার কথাও দিয়েছেন তাঁরা। তার পরও সেটি ভাঙতে সুযোগ দিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। দেওয়ান শমশের রাজা চৌধুরী বিপর্যয়ের হাত থেকে সবাইকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার নগরীর দরগা গেট এলাকার নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান শমশের রাজা চৌধুরী বলেন, ভাড়াটিয়া দলিল অনুযায়ী নতুন ভবনের তৃতীয় তলা পর্যন্ত বর্তমান দোকানমালিকদের দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানানোর পরও তারা দোকান ছাড়ছেন না। তিনি জানান, দোকানমালিকেরা ১৮৭টি দোকান থেকে মাসে ২৫ লাখ টাকার মতো ভাড়া আদায় করেন। অথচ মালিকপক্ষকে দেওয়া হয় মাত্র ৫০ হাজার টাকা। ভাড়ার অনেক টাকা এখনো বকেয়া। ভাড়াটিয়ারা অবৈধভাবে সাব ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করছেন। তারা ট্যাক্সও নিয়মিত দিচ্ছেন না। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকাভুক্ত রাজা ম্যানশন। সম্প্রতি দফায় দফায় ভূমিকম্প হলে, ১০ দিন মার্কেটটি বন্ধ রাখা হয়। শমশের রাজা বলেন, মার্কেটের ভাড়াটিয়াদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তা না হলে মার্কেটে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মালিকপক্ষ এর দায়ভার নেবে না। তিনি বলেন, তাদের পরিবার একটি দানশীল পরিবার। জনস্বার্থে ৪২ শতক জায়গার ওপর তার প্রপিতামহ হাসন রাজার নামের রাজা অংশ নাম ধারণ করে রাজা ম্যানশন তৈরি করেন তার পিতা সাবেক মন্ত্রী দেওয়ান তৈমুর রাজা চৌধুরী।
অর্ধশত বছর বয়সি ভবনটি এখন আর সংস্কারের উপযোগী নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ২১ ও ৩০ মে সিলেটে একাধিকবার ভূমিকম্প হওয়ার পর ১৩ জুন পত্রিকায় জরুরি আইনগত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ৩০ দিনের মধ্যে ভবনটি খালি করে মালিকপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়। কিন্তু দোকানমালিক সমন্বয় কমিটির নামে একটি ‘অবৈধ কমিটি’ গঠন করে তারা পালটা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভবনের ক্ষতি হলে দায়ভার মালিকপক্ষের ওপর বর্তাবে বলে উল্লেখ করেছেন।
