খুলনায় লকডাউনের মধ্যেও অলিগলি লোকারণ্য

আপডেট : ২৬ জুন ২০২১, ২২:৪২

লকডাউনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলের কারণে খুলনা মহানগরীর প্রধান সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা। কিন্তু অলিগলি ও পাড়ামহল্লার সড়ক লোকে লোকারণ্য। কিশোর ও উঠতি বয়সি তরুণদের আড্ডা চলছে যত্রতত্র। বয়স্করাও ঘরে থাকছেন না। চলছে আড্ডাবাজি। অলিগলিতে মানুষের ঠাসাঠাসি, নেই শারীরিক দূরত্বের বালাই। নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে। তবে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বাঁশ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ ছোটখাটো যানবাহন চলাচল করতে না পারলেও লোকজনের আসা-যাওয়া বন্ধ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দোকান, বাজারে রয়েছে সর্বত্র ভিড়। কোথাও মানা হচ্ছে না বিধিনিষেধ। মানুষের মধ্যে     কোনো ধরনের সচেতনতা নেই। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে রাস্তার ওপারে খাবারের হোটেল। সেখানে ক্রেতাদের বসেই খাবার খেতে দেখা যাচ্ছে। এর সামনে গলির মধ্যে কয়েকটি চায়ের দোকান। সেখানেও মানুষের আড্ডাস্থল। নগরীর গোবরচাকা মধ্যপাড়ায় গলির রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছেন উঠতি বয়সি যুবকের পাশাপাশি বয়স্করাও। অধিকাংশেরই মুখে নেই মাস্ক।

নগরীর সদর হাসপাতালের গলির ভেতরে চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন নাছির উদ্দিনসহ কয়েকজন যুবক। জানতে চাইলে বলেন, ঘরে আর কতক্ষণ। চা খেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে একটু আড্ডা দেব। তারপর বাসায় চলে যাব। নগরীর মৌলভী পাড়ায় গলির রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিল চার কিশোর। তাদের সবাই এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। কিন্তু করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় স্থগিত হয়ে যাওয়া পরীক্ষা নিয়ে চলছিল তাদের আড্ডা। এদের এক জন সাব্বির বলল, ঘরে থাকতে থাকতে বোর হয়ে গেছি। এ সময় পরীক্ষার পড়াও পড়তে ইচ্ছা করছে না। কারণ, পরীক্ষা কবে হবে তার কোনো ঠিক নেই।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি না হলে লকডাউন কার্যকর করা কঠিন। তারপরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবিরাম পরিশ্রম করছেন, জেল-জরিমানাও করা হচ্ছে। তারপরও লোকজন ঠেকানো যাচ্ছে না। পুলিশ চলে গেলেই তারা পুনরায় আড্ডায় মেতে উঠছে। তবে, এ বিষয়ে প্রশাসন কঠোর ভূমিকায় রয়েছে।