করোনায় আক্রান্ত চিকিত্সক সেবা দিলেন রোগীদের

আপডেট : ২৬ জুন ২০২১, ২২:৪৩

করোনা আক্রান্ত এক চিকিত্সক বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিত্সা দিয়েছেন। শাফায়েত হোসেন নামে ঐ চিকিত্সক জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তাকে ডিউটি করতে বলেছেন। গতকাল শনিবার সকালেও তার জরুরি বিভাগে ডিউটি করার কথা ছিল; কিন্তু অসুস্থতার কারণে তিনি আর চিকিত্সা দেননি।

জানা গেছে, ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাফায়েত হোসেনের গত বৃহস্পতিবার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় সাংবাদিকরা হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পান ডা. শাফায়েত বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে রোগীদের চিকিত্সাসেবা দিচ্ছেন। রাত ৮টার দিকে সাংবাদিকরা ফের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। তখন জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত একজন চিকিত্সক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশে ডা. শাফায়েত রাত ৮টা পর্যন্ত ডিউটি করেছেন। পরে আমরা তাকে ডিউটি না করার জন্য বলেছি।

ডা. সাফায়েত সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার আমার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তারপরও আমি ডিউটি করেছি। পরে টিএইচও (উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা) স্যারকে বলেছি আমার শরীরটা ভালো নয়, রাতে ডিউটি করতে পারব না।’ করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসার বিষয়টি কি টিএইচও জানতেন না—এ বিষয়ে ডা. শাফায়াত বলেন, ‘স্যার জানতেন এবং স্যারের নির্দেশেই আমি ডিউটি করেছি।’

শুক্রবার বিকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগে ডা. সাফায়াতের কাছ থেকে চিকিত্সা নেওয়া রোগীরা এখন করোনা আতঙ্কে রয়েছেন।

শুক্রবার রাতে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এস এম শাহরিয়ারের কাছে স্থানীয় এক সাংবাদিক এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চিকিত্সক সংকটের কারণে হাসপাতালের চিকিত্সা বন্ধ করার উপক্রম হওয়াতে ডা. সাফায়েতকে দিয়ে জরুরি বিভাগে ডিউটি করানো হয়েছে। তবে শনিবার বিকালে ডা. শাহরিয়ার বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ডা. সাফায়েতের করোনা পজিটিভ হওয়ায় আইসোলেশনে রাখতে তাকে হাসপাতালে এনেছিলাম। জরুরি বিভাগে তিনি ডিউটি করেননি। আমাদের নির্দেশ অমান্য করে অযথা ঘোরাঘুরি করেছেন।

এ বিষয়ে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি অনেকটা দায়সারাভাবে জবাব দিয়ে বলেন, ঐ বিষয়টা আমি জানি, আর এটা নিয়ে ভাবনার তেমন কিছু নেই। ডা. সাফায়েতের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ফের টেস্ট করিয়ে পজিটিভ আসলে তাকে ডিউটিতে না রেখে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আর পজিটিভ আসুক আর যাই আসুক ওরা চিকিত্সা না দিলে হাসপাতাল বন্ধ রাখতে হবে ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সকরা সিলেট শহরে বসবাস করেন। শহর থেকে এসে হাসপাতালে ডিউটি করেন। অনেকে আবার নিয়মিত হাসপাতালে আসেন না, ডিউটিও করেন না। এক্ষেত্রে তাদের দাবি হলো হাসপাতালে আবাসনের সুব্যবস্থা নেই সেজন্য তারা শহরে থাকেন। তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশে বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার বিভিন্ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিত্সক দিয়ে বালাগঞ্জ হাসপাতালে রাতে ও সকালে ডিউটি করানো হচ্ছে।