টাঙ্গাইলে গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকিং বুথের এজেন্ট। প্রতারক এজেন্ট সারোয়ার হোসেন সবুজ বাসাইল উপজেলার ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি আইসড়া গ্রামের মারিফত মিয়ার ছেলে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৫ জুন বাসাইল উপজেলা ছাত্রলীগ সবুজকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।
জানা গেছে, তিন বছর আগে ডাচ্-বাংলা কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইসড়া বাজারে এজেন্ট ব্যাংকিং বুথ চালু করে। বাসাইলের ফুলকী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সবুজ এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। বাজারে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে এজেন্ট ব্যাংকিং শুরু করেন। আইসড়া গ্রাম তাঁতসমৃদ্ধ এবং অনেক মানুষ প্রবাসী হওয়ায় তাদের স্ত্রী এবং বাবা-মাদের টার্গেট করেন সবুজ। তিনি ব্যাংকিং নীতিমালা উপেক্ষা করে সাধারণ হারের চেয়ে উচ্চ হারে লাভ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে প্রলুব্ধ করেন।
অতি মুনাফার আশায় গ্রামের সরল অনেক মানুষ বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা ও বাজারের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন। জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে দেখেন তাদের জমানো টাকা ব্যাংক হিসাবে নেই। এজেন্ট সবুজের কাছে টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিভিন্ন গ্রাহককে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টালবাহানা শুরু করেন ও ঘুরাতে থাকেন। টাকা না পেয়ে গ্রাহকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। তাদের জমানো টাকা পাওয়ার আশায় বাজারে সালিশ-বৈঠক বসান। সেখানে সবুজ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। হঠাত্ গত সাত দিন ধরে সবুজ বুথ বন্ধ করে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় গ্রাহকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল-সমাবেশ করেন। ফুলকী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, সব গ্রাহক, ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং সবুজের বাবাকে নিয়ে সালিশ-বৈঠক হয়েছে। সবুজের বাবা তার সম্পত্তি বিক্রি করে গ্রাহকের টাকা পরিশোধে রাজি হয়েছেন। টাঙ্গাইল ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং অফিসের ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফ বলেন, এ ঘটনা নিয়ে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সভা করেছে। স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
