করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতিতে যারা গরিব হয়েছেন তাদের চিহ্নিত করে সাহায্য করা হবে বলে উল্লেখ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল শনিবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। পরিসংখ্যান ব্যুরো ও পরিকল্পনা কমিশনের এক জরিপের প্রাথমিক ফলাফলে বলা হয়েছে, দেশে ৬ কোটির বেশি মানুষ বহুমাত্রিক দরিদ্র অবস্থায় রয়েছে। করোনার প্রভাবে এই দারিদ্র্য বেড়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার বিশ্বাস যারা গরিব, তাদের আমরা চিহ্নিত করতে পারব। চিহ্নিত করার পর আমরা সাহায্য করব। তবে এই ৬ কোটি দরিদ্রের সংখ্যাটি আমার কাছে এখনো আসেনি। সোমবার থেকে সর্বাত্মক লকডাউন আসছে, গরিবদের জন্য বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়টির জন্য আমাদের আলাদা একটি কমিটি আছে। প্রধানমন্ত্রী এটি দেখাশোনা করেন। আমার বিশ্বাস যে বিষয়গুলো অবশ্যই আমরা দেখব।
পোশাক রপ্তানিকারকদের প্রণোদনার টাকা পরিশোধের সময় বাড়ানো হবে কি না, এমন বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি, সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে। ভূমধ্যসাগর থেকে অবৈধভাবে বিদেশগামী বাংলাদেশিদের উদ্ধার করা হচ্ছে। দেশে ব্যাপক উন্নতির পরও তারা কেন যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আমারও প্রশ্ন তারা কেন যাচ্ছে। শুধু বাংলাদেশের মানুষ না, সেখানে আমরা দেখি এভাবে অন্যান্য দেশের মানুষ যাত্রা করছে। আগামী অর্থবছরেও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কৃচ্ছ সাধনের পথে হাঁটবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখনকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না। মূলত আমরা অপচয় রোধ করতে এই কাজটি করেছি।
করোনার টিকার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিনেশন আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। যত দ্রুত সম্ভব এটা আমাদের করতে হবে এবং সেটা করা হচ্ছে। আপনারা শিগিগরই এর রেজাল্ট পাবেন। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সামনে অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা সব সময় ভালোটাই প্রত্যাশা করি। এখনো আমাদের সেটাই প্রত্যাশা। আমাদের চলতি অর্থবছরে যে ধরনের লক্ষ্য ছিল সেগুলো আমরা অর্জন করতে পেরেছি। এ সময় তিনি রেমিট্যান্স ও রিজার্ভের তথ্য তুলে ধরেন।
সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সামসুল আরেফিন সাংবাদিকদের জানান, অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি হলো, খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক রাশান ফেডারেশন হতে জি টু জি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ২ লাখ মেট্রিক টন গম ক্রয় এবং উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি অনুসরণে ৩ লাখ টন গম আমদানির ক্ষেত্রে দরপত্র দাখিলের সময়সীমা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখ হতে ৪২ দিনের পরিবর্তে ১৫ দিন নির্ধারণের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় মোট ১৬টি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পেট্রোবাংলা কর্তৃক ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি সর্বমোট ৪৪৮ কোটি ১৬ লাখ ৮২ হাজার টাকায় যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্কি এলপির কাছ থেকে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি ইউনিট মূল্য দাঁড়াচ্ছে ১৩ দশমিক ৪২ ডলার। সভায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৯৬ কোটি ৯৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসের কাছ থেকে সাতটি বোলার্ড পুল টাগবোট ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টরস ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম বা সেসিপ প্রকল্পের আওতায় ১৭ কোটি ৪২ লাখ টাকায় নাহিদ অ্যাডভার্টাইজিং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ের কাছ থেকে শিক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের অনুমোদন হয়েছে। সভায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকার আজিমপুরে সরকারি কলোনিতে বহুতল ভবন নির্মাণের ছয়টি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে।
