চট্টগ্রামের চালের বাজার হঠাত্ ঊর্ধ্বমুখী

আপডেট : ২৬ জুন ২০২১, ২২:৪৬

চালের বাজার নিয়ে আবার অস্থিরতা চলছে। আতপ ও সেদ্ধ চালের দাম বস্তাপ্রতি ২০০-৩০০ টাকা বেড়ে গেছে। বিক্রেতারা জানান, দেশের চালের বাজার নিয়ে বহুমুখী ব্যবসা চলছে। বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ প্যাকেট করে চাল বাজারজাত করছে। ফলে তারা খোলা বাজার থেকে প্রচুর ধান-চাল গুদামে মজুত করেছে। সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় মিল মালিকরা মজুত করে ফেলেছে। ফলে এখন হঠাত্ করে বাজারে চিকন চালের দাম বেড়ে গেছে। মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মিল মালিকদের কারসাজিও রয়েছে। লকডাউনের খবরে আবার পাইকারি বাজার খুচরা ক্রেতাও বেড়েছে।

পাইকারি চাল ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে হঠাত্ চালের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারের সঙ্গে মিল মালিকরা চাল সরবরাহে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। ফলে বাজারে মোটা চালের সরবরাহ কমে গেছে।             পুরো বাজার এখন চিকন আতপ ও সেদ্ধ চালের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এতে মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে চিকন চালের দাম হঠাত্ বাড়িয়ে দিয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পাইকারি বাজারে সরবরাহও কমিয়ে দিয়েছে মিল মালিকরা। ফলে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামও বেড়ে গেছে।

চট্টগ্রামে পাহাড়তলী, চাক্তাইসহ আরো কয়েকটি চালের পাইকারি বাজার রয়েছে। তারা উত্তরাঞ্চলের মিল থেকে চাল এনে বিক্রি করে থাকেন। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, লকডাউনের খবরে পাইকারি বাজারে খুচরা ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। ফলে বাজারে বেচাকেনা বেড়ে গেছে। এতে পাইকারি বাজারে চালের কিছুটা সংকট তৈরি হচ্ছে। বিক্রেতাদের অভিযোগ সরকারিভাবে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে কোনো উদ্যোগ নেই। মিল মালিকদের মর্জির ওপর চালের বাজার ওঠানামা করছে। অথচ মৌসুমে মিল মালিকরা প্রচুর ধান-চাল মজুত করেছে।

গতকাল পাহাড়তলী পাইকারি বাজারে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিটি চালের দাম বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে। সেদ্ধ চালের মধ্যে মিনিকেট প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকায়, জিরাশাইল ২ হাজার ৫৫০ টাকা থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকায়, পাইজাম ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে আতপ চালের মধ্যে মিনিকেট ২ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৫০ টাকায়, বেতি আতপ ২ হাজার ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৩০০ টাকায়, নাজিরশাইল ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৯৫০ টাকায়, কাটারিভোগ ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, দুটি কারণে চালের বাজারে দাম বেড়েছে। প্রথমত, সরকারিভাবে চাল সংগ্রহের কারণে মিল মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া এবং দেশের শিল্প গ্রুপগুলোর প্যাকেটজাত করে বিক্রির জন্য খোলা বাজার থেকে প্রচুর ধান-চাল মজুত করা।