বাংলার মুখ

পেয়ারার স্বর্গ রাজ্য

আপডেট : ২৭ জুন ২০২১, ২০:১৪

 ‘পেয়ারার স্বর্গ রাজ্য’ হিসেবে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা জনপদের সুখ্যাতি দেশ জোড়া। শত বছরের পুরোনো এই জনপদে পেয়ারার মৌসুম এলে ভিন্নরকম ব্যস্ততা চোখে পড়ে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় জমায়। পানিতে ভাসমান হাটে কেনাবেচা হয় দুপুর অবধি। এই মৌসুমে রাস্তার দু’ধারে মাইলের পর মাইল গড়ে ওঠা বাগানের গাছগুলোতে শোভা পায় লাখ লাখ কাঁচা-পাকা পেয়ারা। আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের অন্তত ১৮টি গ্রামে রয়েছে ছোট-বড় ও মাঝারি আকারের দুই শতাধিক বাগান। পেয়ারা চাষ লাভজনক বলে প্রতিনিয়ত বাগানের সংখ্যা বাড়ছে। স্বরূপকাঠী উপজেলায় ৭৪০ হেক্টরের অধিক জমিতে পেয়ারার চাষ হয়।

পেয়ারাগাছ দ্বিবীজপত্রী বহুবর্ষজীবী একটি উদ্ভিদ। এই অঞ্চলের আবহাওয়া ‘বাংলার আপেল’ খ্যাত পেয়ারা চাষের বিশেষ উপযোগী। চারা রোপণের তিন বছরের মধ্যে ফল ধরে। বছরে দুইবার ফল ধরলেও আষাঢ় ও শ্রাবণই প্রধান মৌসুম। প্রতি বছর দুইবার করে বাগান নিড়াতে হয়। অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে মাটির প্রলেপ দিতে হয় সব কান্দিতে। বসন্তের দখিনা বাতাসের সাথে গাছে নতুন পাতা গজায় ও গাছে ফুল আসে। বৈশাখে ফুল থেকে ফল বের হয়। পহেলা শ্রাবণ থেকে পূর্ণাঙ্গ ফল সংগ্রহ শুরু করেন চাষিরা। পুরানো গাছের পেয়ারা, চারাগাছের পেয়ারার চেয়ে বেশি সুস্বাদু হয়। তবে সম্ভাবনাময় এ কৃষিক্ষেত্রটি পিছিয়ে রয়েছে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সংরক্ষণাগার স্থাপন না হবার কারণে। এ সমস্যা সমাধান হলে কৃষকেরা পেয়ারা চাষে আরো আগ্রহী হয়ে উঠবেন।

লেখা ও ছবি :রেদোয়ান হোসেন