পারিবারিক সহিংসতা রোধে শিক্ষার্থীদের মতামত

আপডেট : ২৭ জুন ২০২১, ২১:১৯

পরিবারকে একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রেম, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর চারিত্রিক গুণাবলির সমাহারের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারকেন্দ্রিক এমন সব নৃশংস ও বর্বর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যা আমাদেরকে করেছে বিমূঢ় ও হতাশাগ্রস্ত। আমাদের হূদয়ে রক্তক্ষরণ চলছে এবং এতটাই নির্মমতা যে সিরিয়াল কিলারদেরকেও হার মানিয়েছে। এ বিষয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মতামত তুলে ধরেছেন— আবদিম মুনিব

সবার সচেতনতা জরুরি

সমাজের প্রধান নিয়ামক পরিবার। এই পরিবারের বুনিয়াদকে প্রবলভাবে নাড়া দেয় পারিবারিক সহিংসতা। যখন কোনো সামাজিক আচরণ সমাজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বা বসবাসকারীর অধিকাংশ ব্যক্তির মধ্যে সমাজবিরোধী আচরণের প্রভাব অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পায়, তখনই সহিংসতার সৃষ্টি হয়। ফলে একজন সদস্য পারিবারিকভাবে মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়, কখনো তাকে হত্যার ও শিকার হতে হয়। দেশে অনেক আইন থাকলেও বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ মানুষের সচেতনতা খুবই কম। বিচার-প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, দুর্নীতি, তদন্তে অবহেলা ও ধীরগতির কারণে অপরাধীরা অনেক সময় শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে যায়। এটা সত্য যে, পারিবারিক সহিংসতা রোধে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, কিন্তু এই আইনের প্রয়োগ খুব একটা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। আইনের পাশাপাশি আমাদের সবার সচেতনতাও খুবই জরুরি। তাই আমরা যথাযথ নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ ও বাস্তব জীবনে তার অনুশীলনের মাধ্যমে পারিবারিক সহিংসতা রোধে বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে।

—মোমেনা আক্তার

শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

পরিবারে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন

করোনাকালে মানুষ প্রতিটি মুহূর্তে মৃত্যুর প্রহর গুনছে, আর এই দুঃসময়েও একটুও কমেনি নারীর প্রতি পারিবারিক সহিংসতা। বরং বেড়েছে। নারীর প্রতি সহিংসতার বিভিন্ন ধরন রয়েছে। যৌতুক সম্পর্কিত নির্যাতন, শিক্ষা বঞ্চনা, পারিবারিক কলহ, সম্পত্তির অধিকারের বঞ্চনা, যৌন হয়রানি, নির্যাতন, ধর্ষণ ও পৈশাচিক সহিংসতা। তবে করোনাকালে স্বামীর চাকরিচ্যুত হওয়ার জন্য স্ত্রীকে দোষারোপ করাও অন্যতম সহিংসতা। নারীরা কেবল শারীরিক নির্যাতন নয় বরং মানসিক নির্যাতনেরও শিকার  হয়। স্বামী, শাশুড়ি, ননদ দ্বারা স্ত্রী নির্যাতিত বেশি হয়। তার শরীরে ক্ষতবিক্ষত চিহ্ন সত্যিই কষ্টকর। শিক্ষিত স্ত্রী-ই কি শ্বশুরবাড়িতে নারী নির্যাতনের প্রধান কারণ। আমরা নিজের মেয়েকে লেখাপড়ার ও চাকরি করার যথেষ্ট সুযোগ দেই। তাহলে বাড়ির বউয়ের কাছে ব্যতিক্রম কেন হবো। নারী আন্দোলন কথা যতই হোক না কেন, তবু একটুও কমছে না নারী নির্যাতন। কলকারখানা, বাস, ট্রাক, ট্রেনে ঘটছে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা। আমি মনে করি পারিবারিক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে তত্পর। তাই সর্ব প্রথম পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে।

—মাহমুদা টুম্পা

শিক্ষার্থী, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।