গত বৃহস্পতিবার ভোরে ভূমধ্যসাগরে ভাসমান অবস্থায় ২৬৭ জনকে উদ্ধার করেছে তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২৬৪ জনই বাংলাদেশী। তারা মূলত লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলো। তাদের ছোট নৌকাগুলো ভূমধ্যসাগর অতিক্রমের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এর আগেও কয়েকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। তখনো উদ্ধারকৃতদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী ছিলো। এমনকি বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রায় ৭০০ জন বাংলাদেশী তিউনিশিয়ার বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছে। এছাড়া ইউএনএইচসিআর এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২১ জুনের মধ্যে ২ হাজার ৬০৮ জন বাংলাদেশী এভাবে অবৈধ উপায়ে ইউরোপে পৌঁছেছে।
এভাবে অবৈধ উপায়ে ইউরোপ যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্বেও প্রতিবছর হাজার হাজার বাংলাদেশী ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন। এমনকি তারা জানেন না তারা ইউরোপে পৌঁছাবেন কি না। তবুও তারা কেন অবৈধভাবে ইউরোপ যেতে চাইছে? মূলত ইউরোপের উন্নত জীবনের মোহে পড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অল্প খরচে এসব মানুষ অবৈধ উপায়ে ইউরোপ যেতে চাইছে। এদেশে থাকা মানবপাচারকারীরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাছাড়া অনেকে মানবপাচারকারীদের বিভিন্ন প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে ইউরোপের উদ্দেশ্যে অবৈধ যাত্রা শুরু করছে।
মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরো ঘটবে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ, মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
মো. আজিজুল হাকিম রাকিব
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
