গাজী জাহিদুর রহমান, তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা
তালা উপজেলার জেঠুয়া বাজারের সন্নিকটে প্রবল জোয়ারে কপোতাক্ষ নদের বাঁধে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে বাঁধটি ভেঙে দুইটি ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এই এলাকার মানুষ।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তালার শালিখায় টিআরএম প্রকল্পের সংযোগমুখ বেঁধে দেওয়ার কারণে প্রবল জোয়ারের স্রোত জেঠুয়া বাজারের কাছেই কপোতাক্ষ বাঁকে আছড়ে পড়ছে। শনিবার বিকাল থেকে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে এ বাঁধটি ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
এলাকার অধিবাসী অধ্যক্ষ রামপ্রসাদ দাস, সুকুমার ঘোষ, শাহিনুর রহমান, জবেদ আলী, অলিউর রহমান, স ম আহাদ, মোফাজ্জেল হোসেন, আলতাফ হোসেনসহ অনেকেই বলেন, কপোতাক্ষের প্রবল স্রোতের কারণে জেঠুয়া বাজারের নিচে যে ভাঙন শুরু হয়েছে এখনই যদি সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয় তাহলে জেঠুয়া গ্রামসহ বাজার, জালালপুর, নেহালপুর, ধূলন্ডা, বারুইপাড়া, চরগ্রাম, কৃষ্ণকাটি, আটঘরা, কানাইদিয়াসহ ১০টিরও অধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে। এলাকার তিনটি বাজার, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এতিমখানা, মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসাসহ কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে। পানিবন্দি হয়ে পড়বে অত্র এলাকার মানুষ। এ সময় বাঁধটি মেরামতসহ স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আতঙ্কিত এলাকাবাসী।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের এস ও ফিরোজ হোসেন বলেন, শুনেছি কপোতাক্ষ নদের শালিখা অংশে টিআরএমের মুখ বেঁধে দেওয়ার কারণে জেঠুয়াসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। করোনাকালীন যশোর-সাতক্ষীরা লকডাউন থাকায় এলাকায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। লকডাউন উঠে গেলে যত দ্রুত সম্ভব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তারিফ-উল-হাসান বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যত দ্রুত সম্ভব ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
