কামরুজ্জামান মানিক, ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
ঢাকা-ময়মনসিংহ ফোর লেন সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ঘেঁষে প্রতিদিনই ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে আবর্জনার ভাগাড়। ভাগাড়গুলো মহাসড়কের একেবারে পাশে থাকায় আবর্জনা ছড়িয়ে সরু হচ্ছে সড়ক। ফলে প্রতিনিয়ত ঐ সড়কে চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের উত্কট দুর্গন্ধ সহ্য করে রাস্তা পারাপার হতে হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটি দিনের পর দিন এমন বাজে ও বেহাল অবস্থায় থাকলেও সংশ্লিষ্টরা ঐসব বর্জ্য অপসারণে কোনো ভূমিকাই রাখছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ ফোর লেন মহাসড়ক ঘেঁষে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি, আমতলী ও মায়ের মসজিদ এলাকায় বেশ খানিকটা এলাকা জুড়ে বর্জ্যের স্তূপ। এতে পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল, কার্টন, কর্কশিট, কাগজ, পলিথিন, বস্তা, উচ্ছিষ্ট খাবারের অংশবিশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে স্তূপাকারে রয়েছে। আবর্জনাগুলো ইতিমধ্যে উপচে পড়েছে মহাসড়কের ওপর। এতে মহাসড়কটি সরু হয়ে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি সৌন্দর্যও বিনষ্ট করছে। বাড়ছে মশা-মাছির উপদ্রব। সামান্য বাতাসেই ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। হবিরবাড়ী আমতলী সাবিহা সুলতানা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা তাজুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনই দুর্গন্ধ সহ্য করে পথ চলতে হয়। বছরের পর বছর ধরে এমন অবস্থা চললেও এসব আবর্জনা অপসারণে কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। লুত্ফর রহমান নামে এক পথচারী জানান, গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়কের পাশে আবর্জনা ফেলে এমন নোংরা অবস্থা তৈরি করা হয়েছে যা কোনোভাবেই সহনীয় নয়। সুলতান আহমেদ নামে অন্য এক পথচারী জানান, প্রতিনিয়ত ময়লার স্তূপ পেরিয়ে আশপাশের অসংখ্য বাসিন্দাকে এ সড়কটি মাড়াতে হয়। দুর্গন্ধের কারণে নাকে-মুখে রুমাল দিয়ে চলাচল করতে হয়। দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস নেওয়া যায় না, নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসতে চায়।
স্থানীয় হবিরবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ বাচ্চু জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অসহযোগিতার কারণে ঐ সমস্যার সমাধান হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে স্থায়ীভাবে ডাস্টবিনের জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে। আশাকরি অচিরেই স্থায়ী একটা সমাধান হবে।
ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা খাতুন জানান, বিষয়টি আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
