ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
পশ্চিমের ছয় জেলায় আগাম চাষ করা পাট কাটা শুরু হয়ে গেছে। নতুন ওঠা পাট প্রতি মণ ৩ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এবার এ অঞ্চলে পাট চাষ বেড়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। বীজ বপণের পর প্রথম দিকে বৃষ্টি না হওয়ায় চাষ ব্যাহত হয়। চাষি সেচ দিয়ে পাটখেত রক্ষা করে। পরে বৃষ্টি হলে পাট গাছ তরতরিয়ে বেড়ে উঠে। বর্তমানে পাটের অবস্থা ভালো।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, যশোর জেলায় ২৬ হাজার ৪২৫ হেক্টরে, ঝিনাইদহ জেলায় ২২ হাজার ৮৬০ হেক্টরে, মাগুরা জেলায় ৩৫ হাজার ৮২০ হেক্টরে, কুষ্টিয়া জেলায় ৪০ হাজার ৯৬৬ হেক্টরে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২০ হাজার ৫২৭ হেক্টরে ও মেহেরপুর জেলায় ২০ হাজার ৪০ হেক্টরে পাট চাষ হয়েছে। কয়েক বছর পাটের দাম ভালো পাওয়ায় চাষি পাট চাষে ঝুঁকেছে। গত বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফলন কম হয়। অতি বৃষ্টির কারণে অনেক নিচু জায়গার পাটখেত নষ্ট হয়ে যায়। তবে দাম ভালো ছিল। প্রথম দিকে প্রতি মণ পাট ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। গত জানুয়ারি মাসে ঝিনাইদহের শৈলকুপা ও মাগুরার লাঙ্গলবাঁধ মোকামে সাড়ে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে প্রতি মণ পাট বিক্রি হয়। তবে এ দাম পায় পাটের মজুতদাররা।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বিজুলিয়া গ্রামের পাটচাষি বাচ্চু মোল্লা জানান, গত বছর ১১ বিঘাতে পাট চাষ করেছিলেন। অর্ধেকের বেশি জমির পাট নষ্ট হয়ে যায়। এবারও পাঁচ বিঘাতে চাষ করেছেন। বর্তমানে পাটের অবস্থা ভালো। আগাম চাষ করা পাট কাটা শুরু হয়েছে। মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরঘরিয়া গ্রামের চাষি জিয়াউর রহমান জানান, তাদের এলাকায় এবার পাটের অবস্থা ভালো। কয়েক দিনের মধ্যে আগাম চাষ করা পাট কাটা শুরু হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক জাহেদুল আমিন বলেন, এবার পাটের অবস্থা ভালো। আর ভালো ফলনের আশা করছে চাষিরা। ঝিনাইদহের শৈলকুপার পাট ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, শনিবার শৈলকুপা ও রবিবার মাগুরার লাঙ্গলবাঁধ হাটে নতুন পাট প্রতি মণ ৩ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়।
