কুয়াকাটায় নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই খালের মধ্যে সেতু

আপডেট : ২৭ জুন ২০২১, ২২:৪৭

কাজ শেষ হওয়ার আগেই দুই কোটির বেশি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের দোফাসিপাড়া খালের ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে। পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঐ গার্ডার ব্রিজটি গতকাল মাঝ বরাবর ভেঙে পড়ে। এর পর পরই নির্মাণ শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টরা সটকে পড়ে।

দোফাসিপাড়া গ্রামের বশার মাওলানার বাড়ির কাছে আরসিসি গার্ডার ব্রিজটি কুয়াকাটা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে নির্মাণ শুরু হয়।  ২০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ দশমিক ৭ মিটার প্রস্থের ব্রিজটির দুই গার্ডারের মধ্যখান দিয়ে ভেঙে যাওয়ায় ধুলাসার ও লতাচাপলী এবং কুয়াকাটা পৌসভার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে, নিম্নমানের কাজের কারণেই ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে।

কুয়াকাটা পৌর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের (জিওবির) অর্থায়নে কুয়াকাটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় পৌরসভার দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি চলমান রয়েছে। ২ কোটি ২৬ লাখ ১৫ হাজার ৮৮৩ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ পর্যায়ে ছিল। ২৬ জুন ২০২১-এর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

গ্রামবাসী জানায়, দোফাসি পাড়া খালের ওপর বশার মাওলানার বাড়িসংলগ্ন একটি আয়রন ব্রিজ ছিল। সেই আয়রন ব্রিজটি ভেঙে গিয়ে দীর্ঘদিন পড়ে ছিল। এর স্থলে গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজ চলছিল। এটি নির্মাণ করছিল পটুয়াখালীর টাউন কালিকাপুরের মো. আজাদুল ইসলামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সৈয়দ মো. সোহেল এ্যান্ড দীপ এন্টার প্রাইজ। কাগজে কলমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও মূলত মামুন নামে এক জনের কাছে কন্ট্রাক্ট বিক্রি করে দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এবং দায়িত্বরত কাউকেই পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটির নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী, সিমেন্ট কম ব্যবহারসহ ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কাজ না করার কারণে ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে। কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার জানান, কুয়াকাটা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজটি সম্পন্ন করতে তাদের একজন ইঞ্জিনিয়ার তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি কুয়াকাটা পৌরসভা থেকে অন্যত্র বদলিজনিত কারণে বাইরে রয়েছেন। তাকে তলব করা হয়েছে এবং  এটি নির্মাণে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।