আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জেয়াদ আল মালুম মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগাহী রেখে গেছেন।
গতকাল রবিবার সকালে তার মরদেহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। সেখানে প্রথম এবং পরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বেশ কয়েক জন বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, জাতীয় পার্টি-জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক সিদ্দিকী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করেন ঢাকার সহকারী কমিশনার মারুফা সুলতানা খান হীরামনি। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ছাড়াও বিভিন্ন আইনজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এরপর তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্ক্সবাদী), বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, ঢাকা মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদ, গণজাগরণ মঞ্চ, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী ছিল উল্লেখযোগ্য। পরে তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়। জেয়াদ আল মালুমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক-মুখপাত্র আমির হোসেন আমু, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রমুখ।
গত ২৫ মে রাতে স্ট্রোক করার পর অ্যাডভোকেট মালুমকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সিসিইউয়ে স্থানান্তর করা হয়। চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার ফুসফুসে সংক্রমণ ও মারাত্মক জটিলতা ধরা পড়ে। এরপর শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হলে ২৭ মে দুপুরে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। গত ২ জুন তাকে সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়।
জেয়াদ আল মালুমের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া গ্রামে। তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ছিলেন। ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান এবং সেই থেকে দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি। তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমীর গোলাম আজম ও মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
