এবার উদ্ধার ভয়ংকর মাদক ডিএমটি

আপডেট : ২৭ জুন ২০২১, ২২:৫০

এবার রাজধানীর তেজগাঁও থেকে উদ্ধার হলো নতুন এক ধরনের ভয়ংকর মাদক ডিএমটি (ডিমেথিলট্রিপটামাইন)। অত্যন্ত তীব্র হ্যালুসিনেশন তৈরি করে এ মাদক। গত শনিবার রাতে পরিচালিত এক অভিযানে নতুন মাদকটি, এলএসডি ও আমেরিকান ক্যানাবিজসহ (গাঁজা) চার জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গতকাল রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, র্যাবের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-২ রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের লাভ রোড এলাকা থেকে সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ ওরফে শাদাব, আব্রাহাম জোনায়েদ তাহের, স্বপ্নীল হোসেন এবং সিমিয়ন খন্দকার নামের চার জনকে গ্রেফতার করে। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে আলোচিত মাদক এলএসডি ৪০ ব্লট, ডিএমটি ৬০০ মিলিগ্রাম, আমেরিকান ক্যানাবিজ ৬২ গ্রাম এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।

খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, এলএসডি সম্বন্ধে ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি। এটি মূলত বিদেশ থেকে পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনা হয়। অত্যন্ত ব্যয়বহুল এসব মাদক। এগুলোর ব্যবহারকারী মূলত উচ্চবিত্ত পরিবারের লোকজন। 

ঐ কর্মকর্তা আরো বলেন, উদ্ধার হওয়া নতুন মাদক ডিএমটি মূলত ‘হ্যালুসিনোজেনিক ট্রিপটামাইন ড্রাগ’। এটি মুখে গ্রহণ করা যায়, ধোঁয়ার মাধ্যমে, শ্বাসের মাধ্যমে বা ইনজেকশনের মাধ্যমেও নেওয়া যায়। এটি গ্রহণের পর ৩০ থেকে ৪০ মিনিট গভীর আসক্তি তৈরি করে। গ্রেফতারকৃতদের ভাষ্যমতে, এটি সেবনের পর অত্যন্ত দ্রুত হ্যালুসিনেশন হয় এবং তারা কল্পনার জগতে প্রবেশ করে। মূলত এ থেকে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এমনকি জীবননাশও হতে পারে।

তিনি বলেন, সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ ওরফে শাদাব রাজধানীর উত্তরার একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে ‘ও’ লেভেল শেষ করে দার্জিলিংয়ে ২০১৩ সালে ‘এ’  লেভেলে পড়াশোনা করে। এরপর সে ২০১৫ সালে বিবিএ পড়ার জন্য থাইল্যান্ডে যায়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের সঙ্গে এলএসডি ও ডিএমটি নেওয়া শুরু করে। পরবর্তীতে সময়ে বাংলাদেশে এসেও ঐ মাদক নিত। বিদেশ থেকে বিভিন্ন পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে নিয়ে আসে এবং বাংলাদেশে এনে নিজে গ্রহণ ও বিক্রি করা শুরু করে।

অপরদিকে আব্রাহাম জোনায়েদ তাহের রাজধানীর একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে ‘ও’ লেভেল শেষ করে মালেয়েশিয়া যায় পড়তে। সেখানে ২০১৫-২০১৬ সাল পর্যন্ত থাকে। পরে সে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য যায় এবং সেখানে নিয়মিত এলএসডি ও ডিএমটি নিত। এমবিএ শেষ করে ২০২০ সালে বাংলাদেশে ফেরত আসে। দেশে ফিরে নিয়মিত এলএসডি ও ডিএমটি গ্রহণ ও বিক্রি করা শুরু করে। এছাড়া স্বপ্নীল হোসেন এবং সিমিয়ন খন্দকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।