কয়লানির্ভর ১০ বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ বাতিল

আপডেট : ২৭ জুন ২০২১, ২২:৫০

কয়লাভিত্তিক ১০টি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। অনুমোদন পেলেও প্রকল্পের কাজে অগ্রগতি না হওয়া এবং পরিবেশগত ঝুঁকি কমানোর অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বাতিল হওয়া কেন্দ্রগুলোর মোট উত্পাদনক্ষমতা ৮ হাজার ৭১১ মেগাওয়াট।

গতকাল রবিবার রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এর আগে গত ২২ ও ২৬ জুন এসংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে দৈনিক ইত্তেফাক।

বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলো হলো—পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র, উত্তরবঙ্গ ১২০০ মেগাওয়াট সুপার থারমাল বিদ্যুেকন্দ্র, মাওয়া ৫২২ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র, ঢাকা ২৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র, চট্টগ্রাম ২৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র,  খুলনা ৫৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র, মহেশখালী ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র, মহেশখালী ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র (২), বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ৭০০ মেগাওয়াট আলট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুেকন্দ্র, সিপিজিসিবিএল-সুমিতোমো ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র। এই প্রকল্পগুলো বাতিল হলেও বিদ্যুত্ সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না। ভবিষ্যতে এলাকাভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুত্ বিভাগ।

ঢাকা অঞ্চলের দুটি বিদ্যুেকন্দ্র থেকে মোট ৮০৪ মেগাওয়াট, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচটি বিদ্যুেকন্দ্র থেকে মোট ৪ হাজার ৬৩২ মেগাওয়াট, বরিশাল অঞ্চলের একটি বিদ্যুেকন্দ্র থেকে মোট ১ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট, রংপুর অঞ্চলের একটি থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট এবং খুলনা অঞ্চলের একটি কেন্দ্র থেকে ৫৬৫ মেগাওয়াটসহ মোট ১০টি প্রকল্প বাদ যাওয়ায় ২০৩০ সালে এই অঞ্চলসমূহের মোট উত্পাদনক্ষমতা ৮ হাজার ৪৫১ মেগাওয়াট কমবে। ফলে ২০৩০ সালে ঢাকা অঞ্চলে ৩ হাজার ৩৯৭ মেগাওয়াট, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ১ হাজার ২২৫ মেগাওয়াট ও রংপুর অঞ্চলে ৬৫৩ মেগাওয়াটসহ মোট ৫ হাজার ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ ঘাটতি থাকবে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৬ হাজার ৯৫৪ মেগাওয়াট, কুমিল্লা অঞ্চলে ৮০৩ মেগাওয়াট, সিলেট অঞ্চলে ৪৩২ মেগাওয়াট, খুলনা অঞ্চলে ২ হাজার ৬০ মেগাওয়াট, বরিশাল অঞ্চলে ৬ হাজার ১৭২ মেগাওয়াট ও রাজশাহী অঞ্চলে ২ হাজার ১৬৭ মেগাওয়াটসহ মোট ১৮ হাজার ৫৮৮ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা উদ্বৃত্ত থাকবে। সেক্ষেত্রে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুত্ সরবরাহের মাধ্যমে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও রংপুর অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদার ঘাটতি সমন্বয় করা হবে।

বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, যেসব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় এমন ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রের অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার বাড়াতে বিদ্যুত্ ও জ্বালানির মূল্য সাশ্রয়ী রাখতে হবে। কম খরচে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা অন্যতম চ্যালেঞ্জ। সৌরবিদ্যুত্ উত্পাদন খরচ এখনো বেশি, জমিও বেশি লাগে। যদিও নেট মিটারিং সিস্টেম কিছুটা খরচ সাশ্রয় করবে। তিনি বলেন, নেপাল ও ভুটান থেকে জলবিদ্যুত্ আমদানি করা হবে। নেপাল থেকে জলবিদ্যুত্ আমদানির বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত। বিদ্যুত্ উত্পাদনে এলএনজির ব্যবহারও বাড়তে পারে। ২০৪১ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুত্ উত্পাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।