‘তালাক নোটিশে নারীর অবমাননাকর শব্দ কেন অবৈধ নয়’

আপডেট : ২৭ জুন ২০২১, ২২:৫১

তালাক নোটিশে নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর, অমানবিক ও অযৌক্তিক’ শব্দের ব্যবহার কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। আইন সচিব ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল নোমান ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার শুনানি করেন।

তালাক নোটিশে নারীর জন্য অবমাননাকর শব্দের ব্যবহার বন্ধে হাইকোর্টে রিট করেন রাজধানীর বড় মগবাজার এলাকার বাসিন্দা রাখী জামান। তিনি বর্তমানে কানাডার উইন্ডসর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। আবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে রাকিব মুক্তাদির জোয়ারদারের সঙ্গে বিয়ে হয় রাখী জামানের। পরে ২০১৭ সালের অক্টোবরে রাখীকে তালাক নোটিশ পাঠান রাকিব। ঐ নোটিশের একাংশে বলা হয়, ‘স্বামীর প্রতি স্ত্রীর অবাধ্যতা শরিয়তের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। তাহার উক্ত চাল-চলন পরিবর্তন করার জন্য আমি নিজেই বহু বার চেষ্টা করেছি। কিন্তু অদ্যাবধি তাহার কোনো পরিবর্তন সাধিত হয় নাই। রিটে বলা হয়, মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১ এবং মুসলিম বিয়ে এবং তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী এ ধরনের শব্দের ব্যবহার স্পষ্টভাবে নারীর মানবাধিকার ও তার মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে। একই সঙ্গে সংবিধানের ২৭, ২৮ এবং ৩২ অনুচ্ছেদেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল নোমান শুনানিতে বলেন, তালাক নোটিশে এ ধরনের শব্দের ব্যবহার একজন নারীর প্রতি চরম অবমাননাকর। পরবর্তী সময়ে বিয়ের ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতার মুখে পড়তে হয়। শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করে।