মেরিন ড্রাইভ সড়কের চেকপোস্টে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় কারান্তরীণ টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ অভিযুক্ত ১৫ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেছে আদালত। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে চার্জগঠনের আদেশ দেন। একই সময়ে ওসি প্রদীপ, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত ও কনস্টেবল সাগর দেবের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর আগে চার্জগঠনের ধার্যদিন হিসেবে রবিবার সকালে কারাগারের প্রিজন ভ্যানে ওসি প্রদীপসহ সব আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। প্রিজন ভ্যান থেকে আসামিদের নামানোর সময় স্বজনদের কান্নার রোল পড়ে যায়। এরপর কঠোর নিরাপত্তায় কাঠগড়ায় তোলা হয় ১৫ আসামিকে।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ শুনানি শেষে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। আগামী জুলাই মাসের ২৬-২৮ সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করা হয়।
সাবেক ওসি প্রদীপ ও এসআই নন্দ দুলালের জামিন চেয়ে গত ১০ জুন আদালতে আবেদন জানানো হয়। কিন্তু ঐ দিন আদালতে নথি উপস্থাপন না হওয়ায় শুনানি হয়নি। ১৩ জুন এ নিয়ে পুনরায় আদালতে আবেদন করা হয়। আদালত ২৭ জুন শুনানির দিন ধার্য করে। এ মামলায় অভিযুক্ত কনস্টেবল সাগর দেব গত ২৪ জুন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত তার জামিন আবেদন শুনানির জন্যও রবিবার দিন ধার্য করে। আসামি পক্ষে কক্সবাজার বারের অ্যাডভোকেট দিলীপ দাশ, মহি উদ্দিন খান, মোবারক হোসেন ও চট্টগ্রাম হতে আসা অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত, চন্দন দাশসহ ১০-১২ জনের একটি আইনজীবী প্যানেল এবং রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম ও বাদী পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোস্তফা, সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর চার্জগঠন শুনানিতে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, গত ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে গাড়ি তল্লাশিকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক ইনচার্জ (পরিদর্শক) লিয়াকত আলীকে প্রধান করে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটির তদন্ত করার আদেশ দেন র্যাবকে। এরপর গত ৬ আগস্ট প্রধান আসামি লিয়াকত আলী ও প্রদীপ কুমার দাশসহ সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরবর্তী সময় সিনহা হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুলিশের করা মামলার তিন জন সাক্ষী এবং শামলাপুর চেকপোস্টের দায়িত্বরত আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে র্যাব। এছাড়া একই অভিযোগে পরে গ্রেফতার করা হয় টেকনাফ থানা পুলিশের সাবেক সদস্য কনস্টেবল রুবেল শর্মাকেও।
মামলায় গ্রেফতার ১৪ আসামিকে র্যাবের তদন্তকারী কর্মকর্তা বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাদের মধ্যে সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা ছাড়া ১২ জন আদালতে ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
