বরিশালের গৌরনদীতে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ করে ভোটের দিন দুই জন এবং ভোট-পরবর্তী এক জন নিহত হওয়ার ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পালটাপালটি মামলায় আসামি হয়েছে দুই শতাধিক গ্রামবাসী। হামলা ও মামলায় গ্রেফতারের আতঙ্কে উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ আত্মগোপন করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানা প্রশাসন সহিংসতাপূর্ণ এলাকায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসিয়েছে। বোমায় নিহত আবু বক্কর ফকির হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত এক জন ও সন্দেহভাজন দুই জনকে এবং আঘাতে শাহ আলম খান হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গৌরনদী থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের খাঞ্জাপুর পাঙ্গাশিয়া মাধমিক বিদ্যালয়ে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশের ২০ সদস্যের একটি দল খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমলাপুর, খাঞ্জাপুর, ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামে টহল দিচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্পটে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। বোমায় আবু বক্কর ফকির হত্যা মামলায় শনিবার ভোররাতে খুলনার সোনাডাঙ্গা থেকে এজাহারভুক্ত আসামি হাদিস হাওলাদার এবং মাদারীপুর থোকে শুক্রবার বিকালে সন্দেহভাজন রাজ্জাক সরদার ও হালিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বড়দুলালী গ্রামের নিহত শাহ্ আলম খানের লাশ গতকাল শনিবার দুপুরে বরিশাল মেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাদ আসর জানাজা শেষে শাহ আলমের লাশ পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। নিহত শাহ আলম খানের স্ত্রী হাসিনা বেগম বাদী হয়ে জাকির মৃধা, সোবাহান মৃধা, এনায়েত মৃধাসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার রাতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ভ্যানে নিতে না চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ করে সাগর ও তার মামাতো ভাই আশিব খান বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বড়দুলালী গ্রামের বেইলি ব্রিজ নামক স্থানে ভ্যানচালক হাদিসকে একা পেয়ে তাকে বেদম মারধর করে। ঐ বেইলি ব্রিজ নামক স্থানের অপর প্রান্তের দোকানের সামনে খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য ফিরোজ মৃধার কর্মী ও সমর্থক জাকির মৃধার নেতৃত্বে ৮-১০ জন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পরাজিত মেম্বার প্রার্থী মন্টু হাওলাদারের ভায়রা শাহ্ আলম খানের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দু-তিন জন হামলাকারী শাহ্ আলমকে ঘুসি ও ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিলে তিনি (শাহ আলম) অসুস্থ হয়ে পড়েন। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ঐ দিন রাত ১২টায় শাহ আলম মারা যান। এর আগে গত ২১ জুন ভোট চলাকালে এক জন এবং ফলাফল ঘোষণার পর অপর এক জন বোমায় নিহত হয়েছেন। ভোটের দিন সোমবার দুপুরে গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নে মেম্বার প্রার্থী মোরগ মার্কার ফিরোজ মৃধা ও টিউবয়েল মার্কার মন্টু হাওলাদারের সমার্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। জাল ভোট দেওয়াকে কেন্দ করে উপজেলার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সংঘটিত এই সংঘর্ষকালে ২০ থেকে ২৫টি বোমা বা ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে।
