১ জুলাই বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণার পর থেকেই ঢাকা ছাড়তে মরিয়া সাধারণ মানুষ। যে যেভাবে পারছে ঢাকা ছাড়ছে। রাজধানী থেকে বের হওয়ার পয়েন্টগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। গতকাল রবিবার সকাল থেকেই রাজধানীর গাবতলী, ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে মানুষের ঢল নামে। শিমুলিয়া নৌঘাটও ছিল লোকারণ্য। ঢাকা ছাড়তে মরিয়া এসব মানুষের বেশির ভাগের বক্তব্য, লকডাউনে কাজ না থাকায় বাড়তি খরচ এড়াতেই বাড়ি ফিরছেন তারা। দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় বিভিন্ন যানবাহনে ভেঙে ভেঙে, কয়েক গুণ ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন।
পুলিশ বলছে, পায়ে হাঁটা মানুষকে আটকানোর নির্দেশনা না থাকায় শুধু যানবাহনে তল্লাশি করা হচ্ছে। ভিড় বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না অধিকাংশ মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে গাদাগাদি করে রাজধানী ছাড়ার প্রবণতায় করোনা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভোর থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ছিল যানবাহনের বাড়তি চাপ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলেঙ্গা পয়েন্টে দেখা দেয় যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকা ঘরমুখো যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ে। লকডাউন ঘোষণার পর থেকেই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলগামী লোকজন ভিড় করে শিমুলিয়া ঘাটে। বাড়তি ফেরি চালিয়েও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না যাত্রীর চাপ। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও ছোট যানবাহনে করে অনেককেই ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও ফেনীর বিভিন্ন অংশ থেকে মোটরসাইকেলে চড়ে গন্তব্যে যান অনেকে। একাধিক যাত্রী নিয়ে কয়েক শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিচ্ছেন মোটরসাইকেলচালকেরা। এছাড়া গাড়ির অপেক্ষায় শত শত যাত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে। নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতে ফিরছেন পেশায় বিদ্যুিমস্ত্রি সানোয়ার হাসান। তিনি বলেন, ‘লকডাউনে কামকাজ বন্ধ থাকবে। রোজগার থাকবে না, তাই গ্রামে চলে যাচ্ছি।’
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রবিবারও দক্ষিণাঞ্চলগামী মানুষের ঢল অব্যাহত রয়েছে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে। গতকাল সকাল থেকে ঘাটে হাজার হাজার যাত্রী ভিড় জমায়। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকায় ফেরিতে যাত্রীরা পার হচ্ছে। কঠোর লকডাউন ঘোষণার কথা শুনে যাত্রীদের ভিড় বেড়ে গেছে ঘাটে। সড়কে চেকপোস্ট থাকা সত্ত্বেও মানুষ বিভিন্নভাবে হেটে ঘাটে আসছে। দূরপাল্লার যান চলচল বন্ধ থাকায় ছোট ছোট যানবাহনে করে ভেঙে ভেঙে যাত্রীরা ফেরিঘাটে আসছে। মানুষ গাদাগাদি করে ফেরিতে উঠছে। স্বাস্থ্যবিধি ও শরীরিক দূরত্ব কোনোটাই মানছে না যাত্রীরা। সকাল থেকে এই নৌরুটের ফেরিতে করে দক্ষিণাঞ্চলমুখী হাজার হাজার মানুষকে পার হতে দেখা যায়। যাত্রীর চাপে শিমুলিয়া থেকে বাংলাবাজারমুখী ফেরিগুলোতে পণ্যবাহী ও জরুরি যানবাহন পারাপারে বেগ পেতে হয়।
