মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় সশরীরে উপস্থিত হয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে সরে এসেছে। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশে চলমান বিধিনিষেধের মধ্যেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অনলাইনে চূড়ান্ত পরীক্ষা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে বিভিন্ন বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির পরীক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্নাতকোত্তর (নিয়মিত) শ্রেণিতেও অনলাইনে ভর্তির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এছাড়া বিভিন্ন বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের চলতি পরীক্ষা সমূহের ফি মওকুফ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগ ও ৩টি ইনস্টিটিউটে বিভিন্ন ব্যাচের এ বিশেষ অধ্যাদেশ অনুসারে পরীক্ষা গ্রহণের সূচিপত্র তৈরি হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) থেকে অনলাইনে এসব পরীক্ষা শুরু হবে।
এদিকে করোনা ভাইরাসের কারণে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হলেও অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রেখে প্রশংসা কুড়িয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিমধ্যে সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করেছে স্নাতক শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমও চলছে সমানতালে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনার শুরু দিকে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদেরকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তিন হাজার টাকা সহায়তা প্রদান, অনলাইন ক্লাসে সকলের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ইউজিসি থেকে প্রাপ্ত অর্থে ২৫৭ জন অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে স্মার্টফোন কেনার জন্য ঋণ প্রদান, ল্যাপটপ ক্রয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের স্বল্পসুদে ৬০ হাজার টাকার ঋণের ব্যবস্থা ও ‘মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক’ সেমিনারের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া সপ্তাহে পাঁচ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসগুলোর কার্যক্রম চালু রাখা হয়।
অনলাইনে পরীক্ষা পদ্ধতিকে সাধুবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী রাতুল হাসান বলেন, অনেকদিন পরীক্ষা আটকে থাকায় হতাশা কাজ করছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে হতাশা কিছুটা হলেও দূর হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, করোনার সংক্রমণ বাড়ায় সশরীরে পরীক্ষা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় সশরীরে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে। ফলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে আমরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের থেকে এগিয়ে যাবো। পাশাপাশি সেশনজট অনেকটা কমে আসবে।
অনলাইনে পরীক্ষার জন্য গঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. এম. মেসবাহউদ্দিন সরকার বলেন, শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে থেকে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি চাকরির বাজারে আমাদের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছিল। যেহেতু সশরীরে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তাই অনলাইনে পরীক্ষা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বিভাগ অনলাইনে পরীক্ষা শুরু করেছে। আশা করি, অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ায় ক্ষেত্রে কোনরকম ত্রুটি থাকবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক বিভাগে সম্পূর্ণরূপে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, তাই অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতিমধ্যে কয়েকটি বিভাগ পরীক্ষার রুটিনও দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে পরীক্ষা শুরু করলেও করোনার সংক্রমণ বাড়ায় স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। তাই আমরা শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা ভেবে কোনরকম ঝুঁকি ছাড়াই অনলাইনের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
ইত্তেফাক/এমএএম
