অভিনয় থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন বেশ আগে থেকেই। তবে মাঝে মাঝে গান নিয়ে হাজির হন এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কুসুম সিকদার। নিজের নতুন গান, অভিনয়ে ফেরা, না ফেরা’সহ ইন্ডাস্ট্রির সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
আপনার নতুন গান প্রকাশ পাচ্ছে। গানটি প্রসঙ্গে জানতে চাই—
‘মরিচিকা’ শিরোনামের এই গানটি সম্প্রতি রেকর্ডিং ও শুটিং শেষ করেছি। অনেকদিন পর চেষ্টা করেছি মনের মতো করে গানটি গাওয়ার। গানটির কথা ও সুরের সঙ্গে মিউজিক ভিডিও দর্শক-শ্রোতাদের ভালো লাগবে আশা করছি।
অনেকদিন পর ক্যামেরার সামনে এলেন। তাহলে দর্শকরা কী আগের কুসুম সিকদারকে আবার নিয়মিত পাচ্ছে?
না, আপাতত তেমন সম্ভাবনা নেই। শুধু গান নয়, অভিনয়েও ক্ষেত্রেও একই কথা বলবো। গান করি শখের বসে। অনেকদিন পর ইচ্ছে হলো, তাই গানটি গাইলাম।
প্রচার মাধ্যমের সঙ্গে কাজের পরিধি বেড়েছে। তারপরও নিজেকে আড়ালে কেন রাখছেন?
সবাইকে জানিয়েই অভিনয় থেকে দূরে থাকছি। এখনো সিনেমা, নাটক ওয়েব সিরিজের অফার আগের মতোই পাই। তবে নির্দিষ্ট কিছু কারণে আপাতত কাজ করার ইচ্ছে নেই।
অনেকেই ক্যারিয়ারের বয়স বাড়লে ব্যবসা বা পরিবারের দিকে মনোযোগী হন। এতে অভিনয়ের আগ্রহ কমে যায় কি-না!
অন্যেদের কথা তো বলতে পারবো না। আমি মাঝে মাঝে বই বের করছি। বলতে পারেন, লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। তবে গান বা অভিনয় আর করবো না, বিষয়টি তেমন না। নির্দিষ্ট সেই কারণগুলো যদি মিটে যায় তো অভিনয় করতেই পারি।
ওটিটি মাধ্যমটি দেশের প্রেক্ষাপটে কতটা ইতিবাচক বলে মনে করছেন?
আসলে সব ক্ষেত্রেই নেগেটিভ-পজিটিভ দিক থাকে এবং সেটা সমান্তরালভাবে চলে। এখান থেকে কে ভালোটা নেবে, আর কে খারাপটা নেবে সেটা ব্যক্তিসত্ত্বার ওপর নির্ভর করে। তবে এই মাধ্যমটির সঠিক ব্যবহার করতে পারলে শিল্পী-কলাকুশলীর জন্য নিশ্চয় ইতিবাচক একটি মাধ্যম হবে বলে আমি মনে করি।
আপনাদের সময়ের মতো বর্তমান সময়ের নাটকগুলো প্রভাব না ফেলার কারণ কী বলবেন?
এখন শুধু নাটক না, সিনেমা, গান সবকিছুই আগের মতো প্রভাব ফেলছে না বলে মনে হচ্ছে। তবে আগে তো শুধু বিটিভির দিকে আমরা চেয়ে থাকতাম। এখন তো অসংখ্য মাধ্যম, অসংখ্য কাজ হচ্ছে। ফলে প্রতিযোগিতা থেকেই যার যেটা পছন্দ সে সেটা গ্রহণ করবে।
টিভি নাটকের দর্শক নানা মাধ্যমে পরিবর্তিত হচ্ছে। এত টিভি নাটক কোনদিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন?
আমাদের দেশের টিভি কন্টেন্ট আরো যুগোপযোগী করতে হবে। দর্শকরা কী চায় সেটা মাধায় রেখে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নির্মাণ করতে হবে।
কাজ দিয়ে নয়, ভিউগুণে স্টার নির্ধারণের চর্চাকে কীভাবে দেখছেন?
ভিউ অতটা খারাপ তা তো না। এটাকে আমি খারাপভাবে দেখি না। যেকোনো নতুন ট্রেন্ডকেই আমি পজিটিভলি দেখি। কারণ ব্যবসা হচ্ছে, ব্যবসা না হলে তো নির্মাণ হবে না।
নাটক-ওয়েব সিরিজের ‘অশ্লীলতা’ নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?
‘শ্লীল’ ও ‘অশ্লীল’ শব্দ দুটির মাঝে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্যটা নির্মাতা বা দর্শকরা হয়তো ঠিকভাবে বুঝতে পারেন না। গল্পের প্রয়োজনে একটি দৃশ্য বা সংলাপ থাকতে পারে, তবে সেটার উপস্থাপন ভঙ্গির ওপর শ্লীল-অশ্লীল বিষয়টি নির্ভর করে। আমার মনে হয় উপস্থাপনের দিকে একটু নজর দিতে হবে।
