চর এলাকার মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস
কাজলার জামথল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম মুকুল বলেন, যমুনার ভাঙনে চরাঞ্চলের মানুষ প্রতি বছর সর্বস্বান্ত হয়। যমুনা নদীর পূর্বপাড় (বাম তীর) সংরক্ষণ কাজ হচ্ছে। ফলে চরাঞ্চলের লোকজনের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার পাকেরদহ হতে কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের শনপঁচা পর্যন্ত ৬ দশমিক ২৫ কিলোমিটার এলাকার ভাঙনরোধে যমুনা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জামালপুর ডিভিশন ৫৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। যমুনা নদীর পূর্ব পাড়ে প্রকল্পটির কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান হওয়ায় এলাকার মানুষের মনে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে বর্ষা শুরু হতেই প্রতি বছর যমুনা নদীর বাম তীরে দেখা দেয় ভয়াবহ নদীভাঙন। নদীভাঙনে জামালপুর জেলার সঙ্গে যুক্ত বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ী, কাজলা, কর্ণিবাড়ী ও বোহাইল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। এছাড়াও চরাঞ্চলের মানুষের ছেলেমেয়েদের জন্য নির্মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয়ন প্রকল্প, গুচ্ছগ্রাম, আদর্শ গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়াও ফসলসহ হাজার হাজার হেক্টর জমিজমা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে থাকে এই নদীভাঙনে। জমিজমা ও ঘর হারিয়ে বাস্তহারা লোকজন দিশেহারা হয়ে পড়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ড গত মার্চ মাস হতে প্রকল্পটির কাজ শুরু করেছে। এ প্রকল্পের কাজ চলবে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটি ২৩টি প্যাকেজে বিভক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৩টি প্যাকেজে ৩২০ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করে কাজ শুরু করা হয়েছে। অন্য ১০টি প্যাকেজের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের জামথল নৌঘাট হতে কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের চর শোনপঁচা গ্রাম পর্যন্ত শুরু করা হয়েছে। পরে যমুনা নদীর বাম তীরে সিসি ব্লক নিক্ষেপ, তীরের মাটিতে জিওটেক্স বিছিয়ে তার ওপর সিসি ব্লক দ্বারা নদী তীর সংরক্ষণ করার কথা রয়েছে।
কাজলার জামথল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম মুকুল বলেন, যমুনার ভাঙনে চরাঞ্চলের মানুষ প্রতিবছর সর্বস্বান্ত হয়। যমুনা নদীর পূর্বপাড় (বাম তীর) সংরক্ষণ কাজ হচ্ছে। ফলে চরাঞ্চলের লোকজনের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ সরকার বলেন, আমরা যমুনা নদীর পূর্ব পাড়ের মানুষ সব সময় নদীভাঙন আতঙ্কে ছিলাম। নদী তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু হওয়ায় নদীভাঙনের হাত থেকে এলাকবাসী রক্ষা পাবে।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) দেলোয়ার হোসেন বলেন, মার্চ মাসে নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। যমুনা নদীর বাম তীর আর যাতে ভাঙতে না পারে সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং জিও ব্যাগ দিয়ে নদীর পাড় মুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সিসি ব্লক নির্মাণ করা হচ্ছে, স্থায়ী ভাঙনরোধে শুষ্ক মৌসুমে সিসি ব্লকের কাজ শুরু হবে। যাতে নদী আর ভেঙে পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে না পারে। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ মোবাইল ফোনে বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা সার্ভে করে কাজ শুরু করা হয়েছে।
