পিপলস লিজিং পুনরায় চালুর আদেশ

আপডেট : ২৮ জুন ২০২১, ২১:৪৩

ইত্তেফাক রিপোর্ট

অবসায়ন হবে না পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (পিএলএফএসএল)। আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি চালু হবে। এ প্রতিষ্ঠানকে পুনরুজ্জীবিত করার আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এজন্য একটি কমিটিও গঠন করে দিয়েছেন আদালত। পিপলস লিজিংয়ের আমানতকারীদের আবেদনে সব পক্ষের শুনানির পর বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে আমানতকারীদের আইনজীবী আহসানুল করিম ইত্তেফাককে বলেন, আমানতকারীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে আবারও চালু করার আদেশ দিয়েছেন। চালু করার পর প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার জন্য একজন আইনজীবী বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়েছে। কমিটিতে একজন নিরীক্ষক ও আমানতকারীদের প্রতিনিধিও থাকবেন। তবে হাইকোর্টের আদেশে গঠিত কমিটিতে কারা কারা থাকবেন, তা লিখিত আদেশে জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান। আইনজীবী আহসানুল করিম আরো বলেন, নতুন কমিটি প্রতিষ্ঠানটির ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন করে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী ও যোগ্য বিনিয়োগকারী খুঁজে বের করে তাদের হাতে প্রতিষ্ঠানটির ভার হস্তান্তর করবেন।

অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ এ প্রতিষ্ঠানটিকে ২০১৯ সালে অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। ১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিপলস লিজিংয়ের অনুমোদন দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে অবসায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অবসায়ক নিয়োগের পর এখন পর্যন্ত মাত্র ৪০ কোটি আদায় হয়েছে। তবে আমানতকারীরা কোনো টাকা ফেরত পায়নি।

মূলত, পি কে হালদারের অর্থ কেলেঙ্কারিতে ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানির মধ্যে পিপলস লিজিং অন্যতম। এ কোম্পানির পুনর্গঠন বা পুনরুজ্জীবিত করার নির্দেশনা চেয়ে গত সপ্তাহে ২০১ জন আমানতকারী আইনজীবী শামীম আহমেদ মেহেদীর মাধ্যমে  আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আইন অনুযায়ী আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের কোনো বিধান নাই। তবে আমানতকারীদের স্বার্থরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো একীভূত করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনা বাংলাদেশ ব্যাংক নিতে পারে। পিপলস লিজিংয়ের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে আমানতকারীদের ‘ক্ষতির বোঝা আরো বাড়বে’ বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আহসানুল করিম। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তানজীব-উল আলম। আর পিপলস লিজিংয়ের সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিক্যুইডেটর) বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. আসাদুজ্জামানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মেজবাহুর রহমান।

অবসায়কের আইনজীবী মেজবাহুর রহমান বলেন, মৌখিক আদেশে আদালত বলেছে যে, পিপলস লিজিং এখন অবসায়ন থেকে পুনরুজ্জীবীত হলো। অবসায়ন হবে না। আদালত একটি বোর্ড করে দেবেন চেয়ারম্যানকে প্রধান করে। সেই বোর্ডে চার-পাঁচ জন থাকবেন, যারা পিপলস লিজিংটা চালাবেন একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। সেই নির্দিষ্ট সময় কত দিনের তা এখনই বলা যাচ্ছে না। নতুন কোনো বিনিয়োগকারী যদি প্রতিষ্ঠানটি কেনার প্রস্তাব দেয় বা সরকার যদি কিছু করতে বলে, তবে বোর্ড সেটা দেখবে।

বাংলাদেশের ব্যাংকের আইনজীবী তানজীব উল আলম শুনানিতে বলেন, কোম্পানি আইনে মামলাটি চলছে। কিন্তু আমানতকারীরা আবেদন করেছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনের আলোকে। সে হিসাবে আমানতকারীরা পিপলস লিজিং পুনরুজ্জীবিত বা পুনর্গঠনের যে আবেদনটি করেছেন, তার ‘এখতিয়ার’ নেই। আমানতকারীদের আইনজীবী আহসানুল করিম বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, আমানতকারীরা এ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে ক্ষতির মুখে। বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক চেয়ারম্যান, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যানকে মিটিং করেছিলাম। সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর অভিমত দিয়েছিলেন পিপলস লিজিংকে পুনরুজ্জীবিত করা যেতে পারে। রিভাইব করতে লজ্জার কিছু নেই।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে হালদার) নানা কৌশলে নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে চারটি ব্যাংকবর্হিভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন। ঐ চার কোম্পানির মধ্যে পিপলস লিজিংও একটি।