রাজশাহী মেডিক্যালে আরো ১৪ জনের মৃত্যু

আপডেট : ২৮ জুন ২০২১, ২৩:৩১

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে আরো ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। খুলনা বিভাগে করোনায় মৃত্যু হাজার ও শনাক্তে রেকর্ড ছাড়াল, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের। সাতক্ষীরায় করোনা ও করোনা উপসর্গ নিয়ে তিন নারীসহ আরো সাত জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনায় ছয় জন, ঝিনাইদহে চার জন ও বাগেরহাটে আরো দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বরিশাল বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গসহ মৃত্যু আট এবং লকডাউনে দূরপাল্লার লঞ্চ ও বাস বন্ধে দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। রংপুরে লকডাউনেও বিধিনিষেধ মানছেন না কেউ, বিভাগে আট জনের মৃত্যু। দিনাজপুরে জায়গা নেই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে।

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী জানান, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল পর্যন্ত চিকিত্সাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। এদের মধ্যে সাত জন পজেটিভ এবং সাত জন উপসর্গে মারা যান। রামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃতদের সাত জন রাজশাহীর, পাঁচ জন চাঁপাইনবাবগঞ্জের, নওগাঁ ও নাটোরের এক জন করে। তিনি আরো জানান, শনিবার রাজশাহীর দুই ল্যাবে দুই জেলার ৫৬২ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ আসে ১৪৯ জনের। এতে রাজশাহীতে শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৮৪ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় চাঁপাইবাবগঞ্জের ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে জেলা হাসপাতালে একজন ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ জন মারা যায়। এ নিয়ে মোট ১৩৮ জন মারা গেল। অন্যদিকে ৪৮২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়।

খুলনা অফিস জানায়, খুলনা বিভাগে করোনা ভাইরাসে দিন দিন শনাক্ত আর মৃত্যুর রেকর্ড ভাঙছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়াল। এ সময়ে নতুন করে রেকর্ড ১ হাজার ৪৬৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়। একই সঙ্গে শনাক্তের সংখ্যা ৫৩ হাজার ছাড়িয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে কুষ্টিয়ায় সর্বোচ্চ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া খুলনায় ছয় জন, মেহেরপুরে চার জন, ঝিনাইদহে চার জন, চুয়াডাঙ্গায় দুই জন, বাগেরহাটে দুই জন, যশোরে এক জন, সাতক্ষীরার এক জন এবং নড়াইলে এক জন মারা গেছে।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিন নারীসহ আরো সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সাতক্ষীরায় করোনায় মোট ৫৮ জনের মৃত্যু হলো। প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে মৃতের তালিকা।

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ১২৪ জন আক্রান্ত ও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১২৪ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। জেলার সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মোংলায় ১৯ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১ জনের পজেটিভ আসে। এখানে সংক্রমণের হার ৫৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। যা গতদিনের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি।

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহে করোনায় আরো চার জন মারা গেছে। এ নিয়ে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৮৮ জনে। এ জেলার গ্রামে গ্রামে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘরে ঘরে মানুষ জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হলেও কেউ পরীক্ষা করাচ্ছেন না। জেলা শহরে লকডাউন ঢিলেঢালাভাবে কার্যকর হলেও গ্রামাঞ্চলে লকডাউন মানার বালাই নেই। গ্রামীণ হাট-বাজারগুলোতে এখনো ভিড় করে কেনাকাটা চলছে।

বরিশাল অফিস জানায়, সীমিত লকডাউনে বরিশালে নিত্যপ্রয়োজনীয় ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট এবং শপিং মল বন্ধ রয়েছে। লকডাউনের কারণে বরিশাল থেকে অভ্যন্তরীণ এবং দূরপাল্লা রুটের লঞ্চ এবং বাস বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে যারা বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছেন তারা পড়েছেন ভোগান্তিতে। এদিকে বরিশাল বিভাগে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৮১ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে করোনা ওয়ার্ডের আইসোলেশনে উপসর্গ নিয়ে পাঁচ জন এবং করোনা আক্রান্ত হয়ে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পটুয়াখালীতে করোনা আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। বরিশালের আগৈলঝাড়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় এক দম্পতিসহ নতুন করে আরো  পাঁচ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

রাজাপুর (ঝালকাঠী) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ নিয়ে অনেকটাই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে সবার। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১২ জন শনাক্ত হয় যা উপজেলাবাসীর জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর জানান, রংপুরে সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধ কেউ মানছেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পণ্যবাহী যানবাহনের পাশাপাশি থ্রি-হুইলার, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মিনিবাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। খোলা রয়েছে শপিংমল, মার্কেট ও ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এদিকে রংপুর বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো আট জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে ৪, দিনাজপুরে ২, রংপুুুরে ১ ও লালমনিহাটে এক জন রয়েছে। এ নিয়ে রংপুর বিভাগে মারা গেল ৪৯৫ জন।

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর জানান, জেলায় গত তিন দিন ধরে করোনা সনাক্তের হার কিছুটা কমলেও আক্রান্ত সংকটাপন্ন (ক্রিটিক্যাল) রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে কোনো সিট খালি নেই। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। বাড়তি রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো সাত জন করোনা রোগী মারা গেছেন।

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্বাস খান (৬৫) করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। গত রবিবার রাতে তিনি পাঠানপাড়ার নিজ বাসভবনে মারা যান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু মো. আলেমুল বাসার জানান, সৈয়দপুরে প্রতিদিনই করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ৬৭ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। আক্রান্তের হার ৪১ দশমিক ৩৬ ভাগ।