বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের অব্যবস্থাপনার কারণে সড়কে ধুলোবালি সৃষ্টির পাশাপাশি দীর্ঘ যানজটে পড়ছে মানুষ। যানজট নিরসনের জন্য যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে সেটির অব্যবস্থাপনার কারণে উত্তরা থেকে গাজীপুর সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। প্রকল্পের কাজের কারণে সড়কের মাঝখান বন্ধ করে দেওয়ায় দুই পাশের রাস্তা সরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে টঙ্গী ব্রিজের পরে কিছু অংশে সলিংয়ের রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু ট্রাক চলাচলের কারণে সেই ইট ভেঙে সড়কে তৈরি হয়েছে আরো খানাখন্দ। নড়বড়ে সেই সলিংয়ে মধ্যে গাড়ির চাকা আটকে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না করে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের ওপর উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। এ দুর্ভোগের ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে পরিবহন যাত্রীরা। টঙ্গী শিল্প এলাকা হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পণ্য উত্পাদন ও সরবারহ কাজেও বিঘ্ন ঘটছে। করোনাকালীন এই সময়ে জনস্বাস্থ্য ও ওষুধ উত্পাদন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও বিশেষত কাজে যোগ দিতে ভোগান্তিতে পড়ছে। কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তারা যানজটের কারণে ঠিক সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হতে না পারায় কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। কাঁচামাল পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটছে। ফলে সার্বিক উত্পাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কারখানার মালিকরাও যথাসময়ে অফিসে পৌঁছতে না পারায় নীতিনির্ধারণী অনেক সিদ্ধান্তও বিলম্বিত হচ্ছে। প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ‘গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট (বিআরটি, গাজীপুর-এয়ারপোর্ট) ঢাকা ও গাজীপুর এলাকার যানজট নিরসনে ২০১২ সালের ২০ নভেম্বর একনেক সভায় অনুমোদন পায়। যেটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চলাচলকারী জনসাধারণ এবং গাজীপুরের জনসাধারণের ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত ও সহজ হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ১০০টি আর্টিকুলেটেড বাসের মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় ২৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করবে। কমবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজট। ২০২২ সালের জুন মাসে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করার সংশোধিত সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বিগত প্রায় ৯ বছরে দফায় দফায় এ প্রকল্পের মেয়াদ ও সময় বাড়ানো হলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকা থেকে শুরু যানজট। প্রকল্পের নির্মাণশ্রমিকরা তাদের কাজ করছেন। সড়কের মাঝখানেই নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে। দুই পাশের সুরু রাস্তা দিয়ে গাড়ি একটু পর পর থেমে থেমে ধীরে ধীরে চলছে। যার কারণে দেখা দিয়েছে প্রচণ্ড যানজট। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন মানুষ। যানজটের কারণে আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সময় লাগছে। কিন্তু যানবাহন চলাচলের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার। মূল সড়কে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ। যে পথ যেতে কিছুদিন আগেও লাগত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা, আর এখন লাগছে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। বৃষ্টি হলে দুর্ভোগ আরো দ্বিগুণ হয়ে যায়। টঙ্গী ব্রিজের পরে ইট দিয়ে নতুন করে সড়কের ওপর সলিংয়ের কাজ চলতে দেখা গেছে। গত কয়েক দিন ধরেই এই কাজ চলছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এই সড়কে সিএনজিচালক আবুল কালাম জানান, আমাদের কি যে দুর্ভোগ, সেটা আমরা যারা এই পথে চলি তারাই শুধু বুঝতে পারবে। এই যানজট কোনোভাবেই কমছে না। ভবিষ্যতে যানজট কমানোর জন্য এখন যে যানজট বাড়ছে সে বিষয়ে কোনো কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
টঙ্গীর বাসিন্দা হাশমত আলী বলেন, টঙ্গী একটি শিল্প এলাকা। এখানে প্রচুর কারখানা রয়েছে। ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা যদি এমন হয় তাহলে তো খুবই সমস্যা। এই সমস্যার সমাধান আসলে কবে হবে, কেউ বলতে পারবেন? পারবেন না।
ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের ব্যবসায়ী আজমল আলী বলেন, সলিং করা হচ্ছে রাস্তায়। কিন্তু ইট কি আর ট্রাকের কারণে টেকে? সড়কের মধ্যে মাঝখানের রাস্তা ছেড়ে দিলেই তো যানজট অনেকটা কমে যায়।
টঙ্গী ব্রিজের ওপর দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ বলেন, এখানে প্রকল্পের কাজের কারণে এমন যানজট তৈরি হচ্ছে। প্রকল্প যাই হোক সড়কগুলো মজবুত করে তারপরেই কাজ শুরু করলে তো এ অবস্থা হতো না। দুই পাশের রাস্তা ভাঙাচোরা রেখে কাজ শুরু করলে তো যানজট লাগবেই।
এ বিষয়ে বিআরটি-৩ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) প্রকৌশলী এ এস এম ইলিয়াস শাহ দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের কাজ যেভাবে চলছে আমরা আশাবাদী নির্দিষ্ট যে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে, সে সময়ে কাজ শেষ করতে পারব। লকডাউনেও কাজ চলবে। এখন আগে থেকে সড়কে যনজট কমে গেছে। এ বিষয়ে বিআরটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর শফিকুল ইসলাম বলেন, কাজের সময়ে তো সব সড়ক ঠিক করা যাচ্ছে না। রাস্তা আগে থেকে খারাপ হওয়ায় সাময়িক কিছু অসুবিধা হচ্ছে। কাজ শেষ হলে আমরা পুরো সড়কই পাকা করে দেব।
