দণ্ডিত প্রকৃত অপরাধী বাইরে, নির্দোষ মানিককে জামিন দিল হাইকোর্ট

আপডেট : ২৮ জুন ২০২১, ২৩:৩৪

মাদক মামলায় দণ্ডিত মূল আসামি মানিক মিয়ার পরিবর্তে জেলখাটা শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখীপুরের মানিক হাওলাদারকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই মামলার কেস ডকেট (সিডি) হাইকোর্টে দাখিল করতে সিরাজগঞ্জের জেলা জজকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে আইনজীবী পার্থ সারথী রায় ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় শুনানি করেন।

গত ৮ মার্চ ‘এক মানিকের বদলে অন্য মানিক জেল খাটছেন’—এমন অভিযোগের ঘটনার বিচারিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামসুল আলম বিচারিক অনুসন্ধান করে এ ঘটনায় প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করেন। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার আসামি মানিক মিয়া এবং গত বছরের ২৮ নভেম্বর গ্রেফতার মানিক হাওলাদার একই ব্যক্তি নন। তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। ওয়ারেন্টভুক্ত মানিক মূলত শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখীপুর থানার মালতকান্দির ইব্রাহিম মৃধার ছেলে। অন্যদিকে গ্রেফতার মানিক হাওলাদার একই উপজেলার সখীপুর থানার চর সখীপুরের আলম চান বেপারী কান্দি গ্রামের নজরুল ইসলাম হাওলাদারের ছেলে। এই প্রতিবেদন গ্রহণ করে হাইকোর্ট মানিক হাওলাদারকে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেয়।

আইনজীবীরা জানান, ২০০৯ সালে একটি গাড়িতে ফেনসিডিল পাওয়ার অভিযোগে ঐ বছরের ২ জুন সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানায় চার জনের বিরুদ্ধে করা মামলা হয়। পরে        ঐ মামলার আসামি মানিক মিয়াকে ২০০৯ সালের ৩ জুন গ্রেফতার করে পুলিশ। কিছুদিন কারাভোগের পর একই বছর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান মানিক।

২০১৯ সালে মামলার বিচার শেষে সিরাজগঞ্জের আদালত চার আসামিকে চার বছরের কারাদণ্ড দেয়। আসামিরা হলেন :ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার মন্টু শেখ ওরফে জামাল উদ্দিন ও সোহরাব হোসেন, পটুয়াখালী বাউফল থানার জামাল হোসেন ও শরীয়তপুর জেলার সখীপুর থানার মানিক মিয়া। কিন্তু সাজা পরোয়ানামূলে মানিক মিয়ার পরিবর্তে মানিক হাওলাদারকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠায় পুলিশ। এরপর মানিক হাওলাদারের স্ত্রী স্বামীর মুক্তি চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন।