রাজধানীর মগবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের বাতাসে হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ গতকাল সোমবার দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পর বলেন, ‘আমরা গ্যাস ডিটেকটর নিয়ে এসেছিলাম। এখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের আলামত আছে কি না তা জানার চেষ্টা করেছি? এটা হাইড্রোকার্বন ডিটেক্ট করে। হাইড্রোকার্বন হলো প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি উপাদান। তবে এখন পর্যন্ত কীভাবে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তা জানা সম্ভব হয়নি। শুধু গ্যাস থেকে এত বড় বিস্ফোরণের ঘটনা অস্বাভাবিক। তদন্ত সাপেক্ষে আসল কারণ জানা যাবে। আমরা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি।’
এদিকে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, এখানে বোমা বিস্ফোরণের কোনো আলামত তারা পাননি। রাজউক প্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে জানিয়েছেন, ভবনটি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি ভেঙে ফেলতে হবে। বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল থেকে কাজ শুরু করেছে।
মগবাজার আড়ংয়ের উলটো দিকে আউটার সার্কুলার রোডের ৭৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের রাখী নীড় নামে তিনতলা ঐ ভবনে গ্যাস জমেই বিস্ফোরণ ঘটে বলে ঘটনার পরপরই জানিয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্র্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন। গতকাল তিনি বলেন, ‘এখন তদন্ত শুরু হয়েছে। শেষ হলেই বলা যাবে।’
বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ আরো বলেন, ‘শরমা হাউজের নিচতলায় হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি আছে। এ ঘটনায় বিস্ফোরক অধিদপ্তর থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিস্ফোরণে উত্স সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলার সুযোগ নেই। সেখানে বাতাসে গ্যাস পাওয়া গেছে, কিন্তু গ্যাস থেকেই যে বিস্ফোরণ হয়েছে, এমনটা এখনই বলা যায় না। দুর্ঘটনাস্থলে গ্যাসের লাইনে লিকেজ হতে পারে, এটাই যে অন্যতম কারণ হতে হবে, তা নয়।’
নাশকতা কি না তদন্ত চলছে: আইজিপি :মগবাজারের বিস্ফোরণের পেছনে নাশকতা রয়েছে কি না তা তদন্তে বের হবে জানালেও ঘটনাকে বোমা হামলা মনে করে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ। গতকাল সকালে বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সবগুলো বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করে দেখা হবে। ঘটনাটিকে নাশকতা মনে হচ্ছে কি না জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, এটা স্পষ্ট হওয়ার জন্য আমরা দুয়েকদিন অপেক্ষা করি। বিস্ফোরণের লক্ষ্য ছিল—এদিকটা (বাড়ির উত্তর) এবং এটি একমুখী ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। সাধারণত এটা যদি বিস্ফোরক হতো, তাহলে বহুদিকে মানে তিন চার দিকে যেত। আর এই ঘটনায় গ্লাসের ভাঙা টুকরা ছাড়া আমরা অন্য কিছু খুঁজে পাইনি। এ সময় আইজিপির সঙ্গে পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম ও এসবি প্রধান অতিরিক্তি আইজিপি মনিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ভবনটি ভেঙে ফেলতে হবে
মগবাজারে বিস্ফোরণের উত্সস্থল তিনতলা ভবনটির ক্ষতির মাত্রা যাচাই করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে রাজউকের একটি দল। রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) প্রকৌশলী মোবারক হোসেন বলেন, আমরা ভবনটি দেখছি। একটি দল কাজ করছে। তারা প্রতিবেদন দেওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাজউকের অথরাইজড অফিসার ঝুটন দেবনাথ বলেন, এই ভবনটি ৬০/৬৫ বছরের পুরোনো বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তারা জেনেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবনটি ভেঙে ফেলতে হবে।
