আগে রামপাল ও বাঁশখালী বিদ্যুেকন্দ্র বাতিল করা দরকার

আপডেট : ২৯ জুন ২০২১, ০০:৫৬

তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ বলেছেন, পরিবেশের কথা চিন্তা করেই যদি সরকার ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র বাতিল করত, তবে সবার আগে রামপাল বিদ্যুেকন্দ্র বাতিল করা উচিত ছিল। কারণ রামপাল বিদ্যুেকন্দ্র পরিবেশ ও সুন্দরবনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করবে। সম্প্রতি ১০টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ প্রকল্প বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এর প্রতিক্রিয়ায় গতকাল সোমবার বাংলাদেশের বৈদেশিক দেনাবিষয়ক কর্মজোট আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার এখন ১০টি কয়লা-বিদ্যুত্ প্রকল্প বাতিল করেছে। ভবিষ্যতে আরো এমন অনেক প্রকল্প বাতিল হবে। এটা অনিবার্য। যেগুলো বাতিল করা হয়েছে সেগুলোতে হয় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অর্থায়ন করছে না, না হয় পৃষ্ঠপোষক কোম্পানিগুলো সরে যাচ্ছে।

দ্য ইকোনমিস্টের তথ্যমতে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের আর্থিক, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি যে কোনো ব্যবসার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এজন্য বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রগুলো কয়লা-বিদ্যুত্ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, রামপাল ছাড়া বাতিলের তালিকায় প্রথমে থাকা উচিত ছিল চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও মাতারবাড়ী বিদ্যুেকন্দ্র (প্রথম পর্যায়)। বাঁশখালী বিদ্যুেকন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মাতারবাড়ীতে কোহেলিয়া নদী ভরাট করে বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ চলছে। এগুলোকে সবার আগে বাতিল করা উচিত ছিল।

বাতিল করা কয়েকটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রকে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক (এলএনজি) বিদ্যুেকন্দ্রে পরিণত করা হতে পারে। এ প্রসঙ্গে আনু মুহাম্মদ বলেন, কয়লা-বিদ্যুত্ অচল হয়ে যাওয়ায় এলএনজি লবিস্টরা এখন অনেক বেশি তত্পর হয়ে উঠেছে। এজন্য দেশীয় গ্যাসের আবিষ্কার ও উত্তোলন বন্ধ রেখে এবং নবায়নযোগ্য শক্তিকে অগ্রাধিকার না দিয়ে বিদেশি এলএনজি ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে সরকার অনেক বেশি উত্সাহী।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বাংলাদেশের বৈদেশিক দেনাবিষয়ক কর্মজোটের আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম, সংগঠনের সদস্য সচিব হাসান মেহেদী ও নির্বাহী সদস্য সাজিয়া শারমিন।