বর্ষাকালের স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় কখনো রোদ আবার কখনো বৃষ্টি। রোদে পুড়ে সারা মুখ ঘেমেনেয়ে একাকার তার পরমুহূর্তেই ঠাণ্ডা বাতাসে সব শুকিয়ে খটখটে। তৈলাক্ত ত্বক ফেসওয়াশ দিয়ে ধুতে না ধুতেই শুকিয়ে যায়, আবার ময়শ্চারাইজার লাগালেই পরিণত হয়ে যায় তেলের ডিপোতে। মেঘলা দিনের ছলনাময়ী আবহাওয়াতে ত্বক হয়ে পরে বিরক্ত।

বর্ষায় ত্বকের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে থাকে না বলেই যখনতখন র্যাশ, অ্যাকনে, ইমফ্ল্যামেশন, লালচেভাব দেখা দেয়। তার উপর বাড়ি-কর্মক্ষেত্রের স্ট্রেস আরো সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। শরীরকে যেমন বিশ্রাম দিতে হয়, তেমনি ত্বককেও আরামে রাখা প্রয়োজন। প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় ত্বক যেনো অতিষ্ঠ হয়ে না পরে সেদিকে লক্ষ্য রাখাটা জরুরি।

নাকের দু’পাশ, থুতনি বা গালে লালচে হয়ে যাওয়া, ঘাম হলে জ্বালা করা কিংবা ত্বকে হঠাৎই অ্যাকনের সমস্যা বেড়ে যেতে দেখলে, ধরে নিতে পারেন যে আপনার ত্বকের মেজাজ ভালো নেই। যদিও হঠাৎ অ্যাকনে দেখা দেওয়ার পেছনে হরমোনাল কারণও থাকতে পারে। তবে মুখের নির্দিষ্ট কোনো অংশে ইচিং হওয়া বা ঘামাচির মতো ছোট ছোট র্যাশ বের হলেও বুঝতে হবে ত্বকের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। ত্বক যদি সেনসিটিভ হয়, তাহলে এসবের প্রভাব ত্বকে আরো বেশিমাত্রায় পড়ে। এ ধরনের সমস্যাগুলো আবহাওয়া, কসমেটিক্স বা শারীরিক সমস্যার কারণেও হয়ে থাকে।
দিনে বেশ কয়েকবার মুখে পানির ঝাপটা দিন। বিশেষত ঘাম হলে, তা ত্বকে জমতে দেবেন না। ঘামে থাকা জীবাণুই থেকেই হয় র্যাশ, অ্যাকনের মতো নানা সমস্যার। ত্বক ঘামতে শুরু করলেই সাধারণ পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। শেষের দিকে মুখে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ফ্রিজে রাখা পানির ঝাপটা দিন। আর এই পানি তোয়ালে বা গামছা দিয়ে মুছবেন না। আপনাআপনি শুকাতে দিন।

পরিষ্কার ত্বকে প্রথমে ব্যবহার করুন টোনার। ত্বক শান্ত করবে, এমন এজেন্টযুক্ত টোনার ব্যবহার করলে ভালো হয়। অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল প্রপার্টি রয়েছে এমন টোনার কেনার চেষ্টা করুন। মেজাজ হারা ত্বকে কটনপ্যাডে করে টোনার লাগাবেন না। পুরো মুখে টোনার স্প্রে করে আঙুল দিয়ে চেপে চেপে মিশিয়ে দিন। টোনার ত্বকে ভালোভাবে অ্যাবসর্ব হয়ে গেলে ময়শ্চারাইজার লাগান। কুলিং এফেক্ট দেবে এমন কোনো জেল বেসড প্রডাক্ট ব্যবহার করতে পারেন। না হলে অ্যালোভেরা জেল হাতের কাছে রাখুন। এধরনের সমস্যায় একদম অব্যর্থ!

ব্রণের সমস্যা থাকলে, ব্যবহার করতে পারেন চন্দন গুঁড়া এবং অ্যালোভেরার মিশ্রণ। রাতে শুতে যাওয়ার আগে ব্রণের উপর পুরু করে প্রলেপ দিয়ে ঘুমাতে যান। সকালে উঠলে দেখবেন লালচেভাব বা ফোলাভাব অনেকটাই কমে গিয়েছে। একবারে উপকার না পেলে পরপর বেশ কয়েকদিন একই রুটিন ফলো করুন। দিনের কোনো একসময় মুখে এক টুকরো বরফ নিয়ে চেপে চেপে ঘষতে পারেন। এতেও র্যাশের সমস্যা কমবে। ত্বক ঠান্ডা থাকবে।
ঘরোয়া ফেসমাস্ক তৈরি করতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করুন প্রাকৃতিক উপাদান। ‘ন্যাচারাল কুলার’ হিসেবে যা যা পরিচিত, শসা, আলুর রস ইত্যাদি মিশিয়ে নিতে পারেন। মাস্কের বেস হিসেবে রাখুন বেসন বা মুলতানি মাটি। সঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন মধু, হলুদ বা নিমের গুঁড়ার মতো অ্যান্টিসেপ্টিক উপাদান। একসঙ্গে মিশিয়ে আধঘণ্টা মুখে লাগিয়ে রাখুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ফেসমাস্ক ব্যবহার করার সময় না পেলে, শসা, আলু, টমেটোর মতো কুলিং ইনগ্রেডিয়েন্টস থেঁতলে আইস ট্রে’তে জমিয়ে নিন। মিক্সারে ব্লেন্ড করা থেকে বিরত থাকুন। তাপে গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই আইস কিউবও মুখে ঘষতে পারেন। ত্বকে গ্লো আসবে। আর যদি ফেশিয়াল অয়েল ব্যবহার করতে চান, তাহলে জোজোবা অয়েল, রোজহিপ অয়েল, ল্যাভেন্ডার অয়েল ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকের মন ভালো রাখতে চাইলে আর্দ্রতা আর পুষ্টিই শেষ কথা। সেই ভারসাম্য যাতে কোনোভাবে নষ্ট না হয়, তা আপনাকেই সুনিশ্চিত করতে হবে।
ইত্তেফাক/আরএম
