রুই-কাতলা-চুনোপুঁটি

আপডেট : ২৯ জুন ২০২১, ২০:৫২

এই সময়ের ছড়া 

জ্যোতির্ময় সেন  

 

আমরা জানি, মাছের রাজ্যে সুনাম কুড়ায় দুই মাছ,

একটা হলো কাতল এবং অন্যটা ভাই রুই মাছ।

পদস্থ সব কর্তা-ব্যক্তি রুই-কাতলের নাম পায়,

সমাজের সব লোকের কাছে অনেক বেশি দাম পায়।

রুই-কাতলকে বলা হয় যে গভীর জলের মত্স,

এই কথাটির ভিন্ন অর্থ খুঁজলে পাবে বত্স।

জলের শস্য চুনোপুঁটি মাছ হিসেবে তুচ্ছ,

কী থাকে তার ফেললে কেটে কানকো এবং পুচ্ছ?

অল্প জলে পুঁটি মাছে করে শুধু ফরফর,

তাইতো জেলের জালে ওরা ধরা পড়ে পরপর।

নিম্ন পদের ব্যক্তিরা পায় চুনোপুঁটির আখ্যা,

অনেক সময় খায় যে ওরা রুই-কাতলের ধাক্কা।

যাহোক, আমরা মাছের বিচার করবো না আজ তুল্যে,

আমরা বিচার করবো মাছের রোজ বাজারের মূল্যে।

বলতে পারো রুই-কাতলের কেজির মূল্য কয়শো?

পুঁটির কেজি বিকায় টাকা পাঁচ শো থেকে ছয় শো।

বাছাই করা পুঁটির কেজি আটশো থেকে হাজারও,

এদের কাছে মার খেয়ে যায় রুই-কাতলের বাজারও।

রুই-কাতলের কেজি এখন তিনশো থেকে পাঁচশো,

পুঁটির ক্রেতা এ দাম শুনে দিতেই পারে হাস্য।

মূল্য বেড়ে পুঁচকে পুঁটির আসনখানি উচ্চ,

ওদের কাছে রুই ও কাতল এখন বড় তুচ্ছ।

এই সমাজে চুনোপুঁটির বাজার এখন আক্রা,

ওদের স্বাদে জুড়ায় লোকের রসোনা আর টাকরা।

তাইতো দেশের চুনোপুঁটির এখন বেজায় সম্মান,

কপাল খারাপ রুই-কাতলের ওদের এখন কম মান।

 

 

০