পূর্বধলায় আমন ধানের বীজসংকট

আপডেট : ২৯ জুন ২০২১, ২১:০৯

পূর্বধলা (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা

পূর্বধলায় আমন বীজের চরম সংকট চলছে। ফলে সরকারনির্ধারিত মূল্যের দুই থেকে আড়াই গুণ দামে কৃষকদের বীজ কিনতে হচ্ছে। সংকটকে পুঁজি করে বেসরকারি কোম্পানির নিম্নমানের বীজ বেশি দামে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন বীজ ধানের প্রয়োজন।

উপজেলার মেঘশিমূল গ্রামের কৃষক মো. সুজন খা জানান, মঙ্গলবার উপজেলা সদরের মুরাদ বীজ ভান্ডার থেকে ব্রি ধান ৩২ জাতের প্রত্যায়িত ১০ কেজি বীজ ৭ টাকা দিয়ে কিনেছেন। অথচ সরকার নির্ধারিত মূল্য ৩৭০ টাকা। তবে ডিলার মুরাদ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিএডিসি থেকে চাহিদা অনুযায়ী বীজ সরবরাহ নেই। তাই কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী বীজ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কৃষক আলী নেওয়াজ খা ও মোহাম্মদ আলী জানান, তারা উপজেলা সদরের এক দোকান থেকে ব্রি ধান ৩২ জাতের বিএডিসির সিল দেয়া ১০ কেজি ওজনের বস্তা কিনেছেন ৮০০ টাকা করে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঐ বিক্রেতার বিএডিসির কোনো অনুমোদন নেই। ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা প্রত্যেকে আট থেকে ১০ মেট্রিক টন বীজের চাহিদা দিয়েছেন। কিন্তু এ পর্যন্ত চার মেট্রিক টন করে পেয়েছেন। আর এ সুযোগে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন নাম সর্বস্ব কোম্পানির বীজ দেদার বিক্রি করছেন।

পূর্বধলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের দাবি, বাজারে বিএডিসির বীজের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। বেশি দামে বীজ বিক্রি হচ্ছে শুনে তিনি রবিবার ডিলারের দোকান পরিদর্শন করেছেন। পরে সোমবার তাদের ডেকে অতিরিক্ত দামে বীজ বিক্রি না করা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরে অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া নিম্নমানের বীজ বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ভেজাল এড়াতে বিএডিসির নির্ধারিত ডিলারের কাছ থেকে বীজ কেনার পরামর্শ দেন তিনি।